images

সারাদেশ

লিচুর মৌসুমে জ্বালানি সংকট, বিপাকে দিনাজপুরের কৃষক

জেলা প্রতিনিধি

২৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৫২ এএম

মৌসুমের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে জ্বালানি সংকটে বিপাকে পড়েছেন দিনাজপুরের লিচু চাষিরা। পেট্রোল ও ডিজেল না পাওয়ায় বাগানে প্রয়োজনীয় স্প্রে কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, ফলে গাছের সঠিক পরিচর্যা সম্ভব হচ্ছে না। এতে একদিকে বাড়ছে চাষিদের দুর্ভোগ, অন্যদিকে সময়মতো যত্নের অভাবে চলতি মৌসুমে লিচুর ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সরেজমিনে দিনাজপুরের মাসিমপুর ও উলিপুরসহ বিভিন্ন লিচু বাগান এলাকায় দেখা গেছে, অধিকাংশ চাষি স্প্রে মেশিন চালাতে না পেরে বাধ্য হয়ে পায়ে চালিত মেশিন ব্যবহার করছেন। এতে যেমন সময় ও শ্রম বেড়ে যাচ্ছে, তেমনি উৎপাদন খরচও কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

প্রচণ্ড খরার মধ্যে গাছে গুটি বড় হওয়ার এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে প্রয়োজনীয় পানি ও কীটনাশক সময়মতো প্রয়োগ করতে না পারায় চাষিদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

উলিপুর এলাকার লিচু চাষি আবু বক্কর বলেন, গত কয়েকদিনের তীব্র গরমে প্রতিদিনই বাগানে স্প্রে করতে হচ্ছে। কিন্তু পেট্রোলের অভাবে মেশিন চালাতে পারছি না। দুইদিন লাইনে দাঁড়িয়ে মাত্র ৩০০ টাকার পেট্রোল পেয়েছিলাম, যা এক ঘণ্টাও টেকেনি। কয়েকটি গাছে স্প্রে করতেই পেট্রোল শেষ হয়ে যায়। এই অবস্থায় আমরা খুবই আতঙ্কে আছি।

একই গ্রামের আরেক চাষি মহেন্দ্রনাথ জানান, আমার দুটি বাগানে শতাধিক গাছ রয়েছে। পেট্রোল না পাওয়ায় মেশিন চালাতে পারছি না। বাধ্য হয়ে পায়ে চালিত মেশিন ব্যবহার করছি। প্রচণ্ড রোদে কিছুক্ষণ কাজ করলেই শরীর ভেঙে পড়ে। সময়মতো স্প্রে করতে না পারলে লিচু নষ্ট হয়ে যাবে—এই চিন্তায় আমরা দিশেহারা।

ধাদার মোড় এলাকার চাষি মাসুদ রানা বলেন, এই সময় লিচুর গাছে ভিটামিন ও কীটনাশক স্প্রে করা খুব জরুরি। কিন্তু পেট্রোল সংকটের কারণে অনেকেই তা করতে পারছেন না। এতে লিচু মোটা ও স্বাস্থ্যবান হবে না, ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

d8146aff-de9d-4c3c-bc90-795b9e58abec

একই এলাকার আরেক চাষি জাহাঙ্গীর আলম অভিযোগ করে বলেন, আমরা পাম্পে জারকিন নিয়ে গেলেও পেট্রোল দিতে চায় না। অনেক সময় মেশিন নিয়ে গেলেও তেল পাওয়া যায় না। এতে বাগানের কাজ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। দ্রুত এই সমস্যা সমাধান না হলে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।

স্থানীয় চাষি রফিকুল ইসলাম বলেন, লিচুর গুটি এখন বড় হচ্ছে। এই সময়টায় একদিন স্প্রে মিস করলেই পোকার আক্রমণ বেড়ে যায়। পায়ে চালিত মেশিন দিয়ে পুরো বাগান করা প্রায় অসম্ভব। শ্রমিকও পাওয়া যাচ্ছে না, ফলে আমরা চরম সংকটে পড়েছি।

এ বিষয়ে দিনাজপুর সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মাসুম তুষার বলেন, কৃষকদের জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রত্যয়নপত্র প্রদান করা হয়েছে। সেই অনুযায়ী পাম্প মালিকদেরও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে কৃষকেরা প্রয়োজনীয় পেট্রোল ও ডিজেল পেতে পারেন। মাঠ পর্যায়ে আমাদের কর্মকর্তারা কাজ করছেন। দ্রুত সবার হাতে প্রত্যয়নপত্র পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। কেউ সমস্যায় পড়লে কৃষি অফিসে যোগাযোগ করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রতিনিধি/টিবি