images

সারাদেশ

সেই শিক্ষিকাকে অপসারণে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম

জেলা প্রতিনিধি

২৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:০২ পিএম

রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার দাওকান্দি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে নারী প্রদর্শককে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় কলেজটির অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক ও ওই প্রদর্শক আলেয়া খাতুন হীরার অপসারণ দাবিতে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে। 

শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে নগরীর সাহেববাজার জিরোপয়েন্ট এলাকার একটি রেস্টুরেন্টে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী বিএনপি নেতারা এ দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন দুর্গাপুরের দাওকান্দি এলাকার তাফসিরুল কুরআন মাহফিলের সভাপতি আব্দুস সামাদ, জয়নগর ইউনিয়ন বিএনপির বহিষ্কৃত সহ-সভাপতি আকবর আলী, ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি জয়নাল আবেদীন, বিএনপির ওয়ার্ড সভাপতি ইউজদার আলী এবং সাবেক সভাপতি আফাজ উদ্দিনসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

বক্তারা অভিযোগ করেন, গত ২৩ এপ্রিল কলেজে সংঘটিত ঘটনাটি বিভিন্ন গণমাধ্যমে আংশিক ও বিকৃতভাবে প্রকাশিত হয়েছে, যার ফলে তাদের সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছে।

তাদের দাবি, সেদিন বেলা ১১টার দিকে তারা কলেজে প্রবেশ করেন এবং সে সময় সেখানে কোনো ধরনের নিষেধাজ্ঞা বা ১৪৪ ধারা জারি ছিল না।

তাফসিরুল কুরআন মাহফিলের সভাপতি আব্দুস সামাদ বলেন, ‘কিছু মিডিয়া ভুল তথ্য প্রচার করেছে। এতে আমাদের সম্মানহানি হয়েছে। আমাদের ‘চাঁদাবাজ’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।’

তিনি আরও অভিযোগ করেন, কলেজের পূর্বের বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে জবাবদিহি চাইতে গেলে তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয় এবং প্রথমে হামলা চালান প্রদর্শক আলেয়া খাতুন হীরা।

বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে আকবর আলীকে বহিষ্কারের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ঘটনার সময় আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম না এবং কোনো সংঘর্ষেও জড়িত ছিলাম না। ভিডিও ফুটেজেও আমাকে দেখা যায়নি। তারপরও কেন আমাকে বহিষ্কার করা হলো, তা আমার কাছে স্পষ্ট নয়।’

তিনি দাবি করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর ফলেই তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বক্তারা আরও বলেন, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ছাড়া একতরফা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা উচিত নয়। তারা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান এবং প্রকৃত ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র গণমাধ্যমে তুলে ধরার আহ্বান জানান।

তাদের বক্তব্য, ‘আমরা চাই ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অধ্যক্ষ ও অভিযুক্ত প্রদর্শকের অপসারণ নিশ্চিত করা হোক এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।’

অন্যদিকে, প্রদর্শক আলেয়া খাতুন হীরা বলেন, বিভিন্ন সময় কলেজে এসে তারা হিসাব চাইতেন, যা মূলত চাঁদা দাবির অংশ ছিল। অধ্যক্ষের পাশে থেকে প্রতিবাদ করায় তিনিও হামলার শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেন।

অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক জানান, চার মাস আগে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই বিএনপির বিভিন্ন গ্রুপ তার কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিল। তিনি এসব দাবি প্রত্যাখ্যান করায় বিরোধের সূত্রপাত হয়।

দুর্গাপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রফিকুল ইসলাম জানান, অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার আশঙ্কায় পুলিশ আগে থেকেই সেখানে উপস্থিত ছিল এবং উভয় পক্ষকে নিবৃত করার চেষ্টা করা হয়। তবে কিছু লোক জোরপূর্বক প্রবেশ করে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রতিনিধি/একেবি