images

সারাদেশ

রাজশাহীবাসীকে একগুচ্ছ সুখবর দিলেন ড্যাব সভাপতি ডা. ওয়াসিম

জেলা প্রতিনিধি

২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৪৮ এএম

রাজশাহীর সর্বসাধারণকে একগুচ্ছ সুখবর দিয়েছেন বিএনপিপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)-এর কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা ও রাজশাহী জেলা কমিটির সভাপতি প্রফেসর ডা. মো. ওয়াসিম হোসেন।

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) নগরীর সাহেব বাজার জিরো পয়েন্টে এক মানববন্ধন কর্মসূচিতে তিনি এসব সুখবর দেন।

সামাজিক সংগঠন নদী ও পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের উদ্যোগে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। মানববন্ধনে স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন ব্রাইট লাইফ ভলান্টিয়ার্স সংহতি প্রকাশ করে। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আমানুল্লাহ আমানসহ রাজশাহীর বিভিন্ন পরিবেশবাদী ও নাগরিক সংগঠন, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এবং সচেতন নাগরিকরা অংশগ্রহণ করেন।

এ সময় ড্যাব রাজশাহীর সভাপতি প্রফেসর ডা. ওয়াসিম হোসেন বলেন, রাজশাহীবাসীর জন্য বেশকিছু আশার বাণী রয়েছে। স্বাস্থ্য খাতে শীঘ্রই ভাল কিছু আসছে। আগামী দুই মাসের ভেতর রাজশাহী শিশু হাসপাতাল চালু হবে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ১২০০ শয্যার। কিন্তু জনবল রয়েছে অর্ধেক। আগামীতে লজিস্টিক সাপোর্ট বাড়বে এবং সে লক্ষ্যে কাজ শুরু হয়েছে। এছাড়া এই হাসপাতালের আইসিইউ ৬০ শয্যার।

42aec36e-f354-43a5-986d-ec2ed87c25cf

স্বনামধন্য এ চিকিৎসক আরও বলেন, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউ ১০০ শয্যায় উন্নীত করার ব্যাপার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শীঘ্রই ১০০ শয্যায় উন্নীত হয়ে যাবে। এছাড়া স্বাস্থ্য সেক্টরের আরও অনেককিছু করা হবে। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সব বিষয়ে আমাদের আলোচনা হয়েছে। তিনি বিষয়গুলো দেখছেন এবং জনগণের মাঝে খুব তাড়াতাড়ি সুফল পৌঁছে যাবে।

এ সময় রাজশাহীর সকল পুকুর পুনরুদ্ধারের দাবি জানান তিনি। এছাড়া বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে জনগণকেও সচেতন হয়ে অগ্রণী ভূমিকা পালনের আহবান জানান প্রফেসর ডা. ওয়াসিম হোসেন।

মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন নদী ও পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি আ্যাডভোকেট এনামুল হক। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক আ্যাড. হোসেন আলী পিয়ারার সঞ্চালনায় মানববন্ধনে অন্যান্যের মাঝে বক্তব্য রাখেন— মহান মুক্তিযুদ্ধের তথ্য সংগ্রাহক ওয়ালিউর রহমান বাবু, হেরিটেজ রাজশাহীর সভাপতি মাহবুব সিদ্দিকী, বাংলাদেশ আর্মি ইউনিভার্সিটি অফ ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজির শিক্ষক প্রকৌশলী ড. জাকির খান, নদী ও পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের সহ-সভাপতি ড. মোহাম্মদ কামরুজ্জামান, সাবেক কাউন্সিলর বেলাল আহমেদ, দিগন্ত প্রসারি ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. নূরুল হক, বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরামের সভাপতি ও নদী পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমান আতিক, সেভ দি ন্যাচার অ্যান্ড লাইফের চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমান, মাওলানা ভাসানী স্মৃতি সংসদের সভাপতি অধ্যাপক ওয়ালিদুল ইসলাম, সোস্যাল পোগ্রেসন অ্যান্ড ইনভাইরোনমেন্ট রিট্রাভাল সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক কামরান হাফিজ, এডাব রাজশাহীর সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদের সদস্য সচিব শামসুল আবেদীন ডন, নদী ও পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক আঞ্জুমান আরা শিল্পী, যুব মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ঈশিতা ইয়াসমিন, দিনের আলো হিজড়া সংঘের সভাপতি মোহনা খাতুন, গ্রীন কোয়ালিশন রাজশাহীর নির্বাহী সদস্য পলি রানী প্রামাণিক, ওয়াটার ক্রাইসিস পার্লামেন্টের সভাপতি জুলফিকার আলী হায়দার প্রমূখ।

মানববন্ধনে বক্তারা রাজশাহীর নানাবিধ সমস্যা বিশেষত পরিবেশ বিধ্বংসী কর্মকাণ্ড, গাছ হত্যা, পুকুর ভরাট, কৃষিজমিতে পুকুর খনন, নগরীর তরল ও কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, শব্দ দূষণ, বায়ু দূষণ, নদী-দখল-দূষণ, চিকিৎসা সমস্যা, পানি সংকট, সড়কে বিশৃঙ্খলা, জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের অপর্যাপ্ততাসহ নানা সমস্যা উল্লেখ করেন। অবিলম্বে সমস্যাসমূহ সমাধানে এবং সকল প্রাণের জন্য বাসযোগ্য নগর গড়তে সরকার, স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্ঠি আকর্ষণ করেন।

125776e3-970b-4206-b105-7f2dbc6a8d6e

মানববন্ধন কর্মসূচি থেকে রাজশাহীর পরিবেশ, প্রাণ-প্রকৃতি, সামাজিক ও পরিবেশ ন্যায়বিচার নিশ্চিতে এবং টেকসই রাজশাহী গড়তে ২০ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়।

দাবিসমূহ হলো— রাজশাহীতে আর কোনো গাছ কাটা যাবে না, উন্নয়নের নামে গাছ হত্যা বন্ধ করতে হবে, পরিবেশ বিধ্বংসী কর্মকাণ্ড অবিলম্বে বন্ধ করে পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন করতে হবে, নগরীর অবশিষ্ট গাছগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে, বিভিন্ন সময়ে পরিবেশ বিধ্বংসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত সকলকে আইনের আওতায় আনতে হবে, শব্দ দূষণ বন্ধ করতে হবে, নিষিদ্ধঘোষিত হাইড্রোলিক হর্নের ব্যবহার, উৎপাদন, বিপণন, বাজারজাতকরণ বন্ধ করতে হবে। উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও রাজশাহীতে পুকুর ভরাট থেমে নেই, নগরীতে আর কোনো পুকুর ভরাট করা যাবে না, ইতোমধ্যে ভরাট করা পুকুরসমূহ অবিলম্বে পুনরুদ্ধার করতে হবে, সেই সঙ্গে এই অঞ্চলের জলাধারগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে, কৃষিজমির সুরক্ষা নিশ্চিত করে কৃষিজমিতে পুকুর খনন অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে, ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও কৃষিভূমি সুরক্ষা আইন ২০২৬ অবিলম্বে বাস্তবায়ন করতে হবে, কৃষিজমিতে পুকুর খননের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে; নগরবাসীর সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে, রাজশাহীর বিশেষায়িত ২০০ শয্যার শিশু হাসপাতাল অবিলম্বে চালু করতে হবে, নগরীর বায়ু দূষণ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, স্থাপনা নির্মানে নির্মাণ কোড বাস্তবায়ন করতে হবে, প্লাস্টিক দূষণ বন্ধ করতে হবে, একবার ব্যবহার্য প্লাস্টিকের ব্যবহার, উৎপাদন, বিপণন, বাজারজাতকরণ বন্ধ করতে হবে, অবিলম্বে নদী দখল-দূষণ বন্ধ করতে হবে, পদ্মাপাড় দখল-দূষণমুক্ত করতে হবে, রাস্তা দখল করে অবৈধ পার্কিং বন্ধ করতে হবে, রাস্তা দখল করে অবৈধ গ্যারেজ বন্ধ করতে হবে, সকল প্রাণের জন্য বাসযোগ্য নগর নিশ্চিত করতে হবে, নগরীতে পাখি, কুকুর সকলের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে; বিষমুক্ত কৃষি, নিরাপদ ও বিষমুক্ত খাদ্য নিশ্চিত করতে হবে, অতি বিপজ্জনক ও নিষিদ্ধঘোষিত কীটনাশকের ব্যবহার আমদানি, বিপণন, বাজারজাতকরণ বন্ধ করতে হবে, পানির অধিকার নিশ্চিত করতে হবে, বরেন্দ্র অঞ্চলের জন্য পৃথক পানিব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে, ভূ-গর্ভস্থ পানির ব্যবহার কমিয়ে ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার নিশ্চিতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে; নগরীর তরল ও কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা অবিলম্বে নিশ্চিত করতে হবে, নগরীর তরল বর্জ্য পরিশোধন করে তারপর অবমুক্ত করতে হবে, শিল্প, কলকারখানায় বাধ্যতামূলক এসটিপি নিশ্চিত করতে হবে, চায়না দুয়ারি জালের ব্যবহার আমদানি, বিপণন, বাজারজাতকরণ বন্ধ করতে হবে, জলাভূমিতে বিষ, হ্যানিট্রাপ, বৈদ্যুতিক শক কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, ফুটপাত দখলমুক্ত করতে হবে, নগরীর সড়কে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে হবে সড়কজুড়ে অবৈধ পার্কিং বন্ধ করে পর্যাপ্ত বৈধ পার্কিং নিশ্চিত করতে হবে, নগরজুড়ে ডিজিটাল ট্রাফিক সিগন্যাল স্থাপন করতে হবে, অবৈধ রিকশা, অটোরিকশাসহ সকল অবৈধ যানবাহন ডাম্পিং ইয়ার্ডে নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, রিকশা, অটোরিকশা চালকদের বৈধ আইডি কার্ড, লাইসেন্স, নির্দিষ্ট পোশাক নিশ্চিত করতে হবে; পদ্মা, ব্রহ্মপুত্র, বড়াল, শিবসহ পদ্মা থেকে উৎসারিত বারনই, বারাহী, নবগঙ্গা, স্বরমঙ্গলা, দয়া নদী দখল-দূষণ বন্ধ করে অবিলম্বে পুনঃখনন করতে হবে, খরাপ্রবণ বরেন্দ্র অঞ্চলের জন্য পৃথক ‘খরা তহবিল’ গঠন করতে হবে এবং খরাপিড়ীতদের জন্য ‘খরা ভাতা’ চালু করতে হবে, নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ করতে হবে, নদীগুলোকে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে ক্যাপিটাল ড্রেজিং করে নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে দিতে হবে; বরেন্দ্র অঞ্চলসহ দেশব্যাপী কৃষিসেচ সুবিধা ও পানির অধিকার নিশ্চিতে নদী-নালা-খাল-বিল, জলাধার খনন ও পুনঃখনন অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে করতে হবে এবং পানির আধার নিশ্চিত করতে হবে।

প্রতিনিধি/টিবি