images

সারাদেশ

ভোটের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ করছে সরকার: ত্রাণমন্ত্রী দুলু

জেলা প্রতিনিধি

২৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:২৫ পিএম

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেছেন, দেশের মানুষ ভোট দিয়ে সরকারকে দায়িত্ব দিয়েছে। সেই ভোটের প্রতিটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিকেল ৩টায় লালমনিরহাট সদরে বড়বাড়ী শহীদ আবুল কাশেম মহাবিদ্যালয় মাঠে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উপলক্ষ্যে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী বৈশাখি উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই আন্তর্জাতিক অস্থিরতা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সংকটসহ নানা অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতির প্রভাব বিশ্ববাজারে পড়েছে, যার প্রভাব দেশের অর্থনীতিতেও পড়েছে। তবে সরকার পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী সাধারণ মানুষের কথা বিবেচনা করে দীর্ঘদিন জ্বালানি তেলের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখার চেষ্টা করেছেন। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির দ্রুত অবসান হলে দেশের অর্থনীতিতে স্বস্তি ফিরে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি আরও বলেন, জনগণ একটি অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। নির্বাচনের আগে ঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচির আলোকে মানবিক, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে।

মন্ত্রী বলেন, এখন সময় দেশ গঠনের। জনগণের আস্থার প্রতিদান দিতে সরকার উন্নয়ন, সুশাসন ও জনকল্যাণে কাজ করবে।

তিনি বলেন, গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা ও লোকসংস্কৃতি সংরক্ষণে সরকার উদ্যোগ নিয়েছে। একসময় জনপ্রিয় গ্রামীণ খেলা যেমন চেঙ্গুপেন্টি, দাড়িয়াবান্ধা, ঠুস ও চকোর চাল এখন হারিয়ে যেতে বসেছে। একইভাবে লোকসংগীতও বিলুপ্তির পথে।

দুলু বলেন, রংপুর অঞ্চল ভাওয়াইয়া গানের জন্য প্রসিদ্ধ। সুরসম্রাট আব্বাস উদ্দিন এই সংগীতকে বিশ্ব-দরবারে পরিচিত করেছিলেন। ঐতিহ্যবাহী এসব সংস্কৃতি পুনরুজ্জীবনে সরকার কাজ করছে।

বৈশাখি উৎসব উদযাপন উপলক্ষ্যে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠান শুক্রবার ও শনিবার সকাল ৯টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত চলবে। উৎসবের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ঐতিহ্যবাহী ঘোড়া দৌড় প্রতিযোগিতা দেখতে আজ বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থীর সমাগম ঘটে।

এছাড়া গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা ও বাঙালির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তুলে ধরতে রাত ৮টায় ভাওয়াইয়া, ফোক ও পালাগানের আয়োজন করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও বিপুলসংখ্যক মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিনিধি/এজে