images

সারাদেশ

বাউফলে ১৫০ টাকার দ্বন্দ্বে পরীক্ষাকেন্দ্র বাতিল

জেলা প্রতিনিধি

২৪ এপ্রিল ২০২৬, ০১:১৭ এএম

পটুয়াখালীর বাউফল সরকারি কলেজে পরীক্ষার্থী প্রতি মাত্র ১৫০ টাকার দ্বন্দ্ব ও কেন্দ্র পরিচালনার ব্যয় মেটাতে না পারায় পরীক্ষাকেন্দ্র বাতিল করেছে শিক্ষা অধিদপ্তর। এতে স্নাতক (সম্মান) শেষ বর্ষের শতাধিক পরীক্ষার্থী চরম বিপাকে পড়েছেন। আগামী ৩০ এপ্রিল অনুষ্ঠিতব্য পরীক্ষার কেন্দ্র বাউফল থেকে পরিবর্তন করে ৩৫ কিলোমিটার দূরে পটুয়াখালী জেলা সদরের আবদুল করিম মৃধা কলেজে স্থানান্তর করা হয়েছে।

কলেজ সূত্রে জানা গেছে, বাউফল সরকারি কলেজে ২০১২ সালে স্নাতক (সম্মান) কার্যক্রম শুরু হয়। প্রথমে নিজস্ব কেন্দ্রে পরীক্ষা হলেও ২০১৭ সালে তা ৩ কিলোমিটার দূরে কালাইয়া ইদ্রিস মোল্লা ডিগ্রি কলেজে স্থানান্তর করা হয়। কিন্তু চলতি বছর পরীক্ষা শুরুর মাত্র ১০ দিন আগে হঠাৎ করে কেন্দ্রটি ৩৫ কিলোমিটার দূরে জেলা সদরে নিয়ে যাওয়ায় পরীক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, কেন্দ্র ফির টাকা ভাগাভাগি নিয়ে দ্বন্দ্বে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বাউফল সরকারি কলেজ কর্তৃপক্ষ পরীক্ষার্থী প্রতি ৪৫০ টাকা কেন্দ্র ফি আদায় করলেও কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত কালাইয়া ইদ্রিস মোল্লা ডিগ্রি কলেজকে দেওয়া হয় মাত্র ৩০০ টাকা। বাকি ১৫০ টাকা বাউফল সরকারি কলেজ রেখে দেয়। কম টাকায় পরীক্ষার ব্যয় সংকুলান না হওয়ায় কালাইয়া কলেজ কর্তৃপক্ষ কেন্দ্র প্রত্যাহারের আবেদন করলে শিক্ষা অধিদপ্তর তা মঞ্জুর করে।

৩৫ কিলোমিটার দূরের কেন্দ্রে পরীক্ষা দেওয়াকে ‘মানসিক নির্যাতন’ হিসেবে দেখছেন শিক্ষার্থীরা। সমাজবিজ্ঞান বিভাগের পরীক্ষার্থী জাবের মাহমুদ বলেন, ‘এই দীর্ঘ পথ যাতায়াতে অন্তত ৪ ঘণ্টা সময় নষ্ট হবে। দুপুর ১টার পরীক্ষায় অংশ নিতে আমাদের সকাল ৯টায় প্রস্তুতি নিতে হবে। ফিরে আসতে রাত ১০টা বেজে যাবে। যাতায়াত ব্যবস্থার বেহাল দশায় পরীক্ষা মিস করার ঝুঁকিও থাকছে।’ এছাড়া নারী পরীক্ষার্থী, বিশেষ করে অন্তঃসত্ত্বা ও দুগ্ধপোষ্য শিশুদের মায়েদের জন্য এত দূরে গিয়ে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

কালাইয়া ইদ্রিস মোল্লা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ এনায়েত হোসেন বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৪৫০ টাকা নেওয়া হলেও আমাদের দেওয়া হয় ৩০০ টাকা। নিজেদের পকেটের টাকা খরচ করে কেন্দ্র পরিচালনা করা সম্ভব নয় বলেই আমরা কেন্দ্র প্রত্যাহারের আবেদন করেছি।’

অন্যদিকে, বাউফল সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ আবুল বশার তালুকদার বলেন, ‘১৫০ টাকা নিয়ম অনুযায়ী বিভিন্ন খরচ বাবদ রাখা হয়েছে। তবে কালাইয়া কলেজ যে কেন্দ্র প্রত্যাহারের আবেদন করেছে, তা আমরা জানতাম না। মাত্র ১২ দিন আগে বিষয়টি জানতে পেরেছি। আগামী বছর থেকে বাউফলে কেন্দ্র ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।’

এমন পরিস্থিতিতে বাউফলের যেকোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কেন্দ্র ফিরিয়ে আনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন উদ্বিগ্ন পরীক্ষার্থীরা।