images

সারাদেশ

বরিশালের সড়ক ও নৌপথে আদায় হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া, যাত্রীদের ক্ষোভ

জেলা প্রতিনিধি

২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:২৩ পিএম

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পর ঢাকা-বরিশাল সড়ক ও নৌপথে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। বাস ও লঞ্চ—দুই ক্ষেত্রেই ভাড়া সমন্বয়ের নামে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন যাত্রীরারা।

১৭০ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সড়কপথে কিলোমিটারপ্রতি ১১ পয়সা ভাড়া বাড়ানোর ফলে মোট ভাড়া বাড়ার কথা ১৮ টাকা ৭০ পয়সা। এতে নতুন ভাড়া দাঁড়ায় প্রায় ৩৭৯ টাকা। তবে যাত্রীদের দাবি, বাস্তবে টিকিটপ্রতি ৬০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে।

এর আগেও নির্ধারিত ৩৬০ টাকা ৪০ পয়সার পরিবর্তে ৫৫০ টাকা পর্যন্ত আদায়ের অভিযোগ ছিল। নতুন হার কার্যকরের পরও পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়নি বলে জানিয়েছেন যাত্রীরা।

নৌপথেও ভাড়া বেড়েছে। ডেক যাত্রীদের ভাড়া ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা করা হয়েছে। সিঙ্গেল কেবিন ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা এবং ডাবল কেবিন ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যান্য কেবিনেও ভাড়া উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

লঞ্চ মালিকদের দাবি, আগে সরকারি হারের নিচে ভাড়া নেওয়া হতো। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির পর তা সমন্বয় করা হয়েছে। পাশাপাশি নৌপথে ভাড়া ৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।

যাত্রীদের অভিযোগ, সরকারিভাবে নতুন ভাড়া নির্ধারণের আগেই অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া শুরু হয়েছে। এতে ভোগান্তি বাড়ছে।

বাসযাত্রী মেহেদী হাসান মামুন বলেন, আগে থেকেই বেশি ভাড়া নেওয়া হতো, এখন তা আরও বেড়েছে। লঞ্চযাত্রী সজল মাহমুদ বলেন, ভাড়া আবারও বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কা রয়েছে।

বাস কাউন্টারের কয়েকজন ব্যবস্থাপক জানান, জ্বালানির দাম বাড়ায় ব্যয় বেড়েছে। লোকসান এড়াতেই এই সমন্বয়।

তবে বরিশাল জেলা বাস মালিক সমিতির সভাপতি মোশারফ হোসেন ভাড়া বৃদ্ধির নির্দিষ্ট কারণ জানাতে পারেননি।

কেন্দ্রীয় লঞ্চ মালিক সমিতির সাবেক সহসভাপতি রেজিন উল কবির বলেন, ব্যয় বৃদ্ধির কারণে ভাড়া সমন্বয় করা হয়েছে।

বরিশাল নৌযাত্রী ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক দেওয়ান আবদুর রশিদ বলেন, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে ভাড়া বাড়ানোর হার সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বিষয়টি পুনর্বিবেচনার দাবি জানান তিনি।

যাত্রীদের দাবি, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করা হোক।

এআর