জেলা প্রতিনিধি
২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৫৮ পিএম
বরিশাল নগরীতে প্রেমিকাকে বাসায় ডেকে নিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার দুপুরে নগরীর মুন্সি গ্যারেজ এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত প্রেমিক পলাতক রয়েছে।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম।
নিহত সানজিদা কবির অনিতা (২১) বরিশাল বিএম কলেজের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
পুলিশ ও নিহতের পরিবার জানায়, পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার শাহিন হাওলাদারের মেয়ে সানজিদা কবির অনিতা তার মায়ের সঙ্গে বরিশাল নগরীর মুন্সি গ্যারেজ এলাকায় একটি ভাড়া বাড়িতে থাকতেন। একই এলাকায় অপর একটি ভাড়া বাড়িতে মায়ের সঙ্গে বসবাস করেন ঝালকাঠির মিল্টন আকনের ছেলে মইনুল ইসলাম হিমু (৩০)। প্রতিবেশী হওয়ার সুবাদে তাদের মধ্যে পরিচয়ের সূত্র ধরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে সানজিদা হিমুর সঙ্গে দেখা করতে তাদের বাসায় যান। অভিযোগ উঠেছে, দুপুর দেড়টার দিকে তাকে হত্যা করে হিমু পালিয়ে যায়।
নিহত সানজিদার মামা মিশু সিকদার জানান, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বড় বোনের বাসায় যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন সানজিদা। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বড় বোন তাকে ফোন করলে মোবাইল বন্ধ পান। বিষয়টি জানার পর মিশু সিকদার ফোনের লোকেশন ট্র্যাক করে ওই বাড়ির সন্ধান পান। সেখানে গিয়ে ভাগ্নিকে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে তিনি পুলিশে খবর দেন।
মিশু সিকদার আরও বলেন, ‘হত্যাকারী মইনুল ইসলাম এর আগেও ঝালকাঠিতে আরেক প্রেমিকাকে হত্যা করেছিল। ওই ঘটনায় ঝালকাঠি আদালতে একটি হত্যা মামলা বিচারাধীন রয়েছে। বিষয়টি জানার পর আমরা সানজিদাকে এই সম্পর্ক থেকে সরে আসার অনুরোধ করেছিলাম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকেও একই পরিণতি বরণ করতে হলো। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।’
অভিযুক্ত মইনুল ইসলামের মা জাহানারা বেগম বলেন, ‘আমার ছেলের সঙ্গে সানজিদার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বৃহস্পতিবার সকালে সে আমাদের বাসায় আসে। পরে মইনুলের কক্ষে সানজিদার মরদেহ দেখে আমি আতঙ্কিত হয়ে পড়ি। ওই সময় মইনুল বাসা থেকে পালিয়ে যায়। কীভাবে কী হয়েছে, তা আমি বলতে পারছি না।’
কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম ফরেনসিক দলের বরাত দিয়ে জানান, নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে কালচে দাগ রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সানজিদাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
প্রতিনিধি/একেবি