images

সারাদেশ

নওগাঁয় একই পরিবারের চারজনের দাফন সম্পন্ন

জেলা প্রতিনিধি

২২ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৩১ পিএম

নওগাঁর নিয়ামতপুরে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার একই পরিবারের চার সদস্যের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। 

বুধবার (২২ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে পাশাপাশি চারজনকে দাফন করা হয়।

এর আগে নওগাঁ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মরদেহগুলো গ্রামের বাড়িতে আনা হয়। নিহতদের জানাজায় অংশ নিতে বাহাদুরপুরসহ আশপাশের গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ সমবেত হন। বাদ আসর জানাজা শেষে স্বজনদের উপস্থিতিতে দাফন কাজ সম্পন্ন হয়।

গত সোমবার দিবাগত মধ্যরাতে নিয়ামতপুর উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামে এক দম্পতি ও তাদের দুই শিশু সন্তানকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। নিহতরা হলেন বাহাদুরপুর গ্রামের নমির উদ্দিনের ছেলে হাবিবুর রহমান (৩৫), তার স্ত্রী পপি সুলতানা এবং তাঁদের দুই সন্তান পারভেজ রহমান (৯) ও সাদিয়া আক্তার (৩)।

এ ঘটনায় নিহত হাবিবুরের তিন স্বজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তারা হলেন হাবিবুরের ভগ্নিপতি শহিদুল এবং দুই ভাগনে শাহিন ও সবুজ। বুধবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নওগাঁর পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জানান, মূলত পৈতৃক সম্পত্তি ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।

পুলিশ সুপার জানান, নমির উদ্দিনের ছয় সন্তানের মধ্যে হাবিবুর রহমান ছিলেন একমাত্র ছেলে। সম্প্রতি নমির উদ্দিন তার ১৭ বিঘা সম্পত্তির মধ্যে বসতবাড়িসহ ১৩ বিঘা সম্পত্তি হাবিবুরকে লিখে দেন। বাকি ৪ বিঘা সম্পত্তি ভাগ করে দেওয়া হয় তাঁর মেয়েদের। হাবিবুরকে বেশি সম্পত্তি দেওয়ায় বোন, ভগ্নিপতি ও ভাগনেদের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের বিরোধ তৈরি হয়। এর সূত্র ধরেই হাবিবুরের ভগ্নিপতি ও ভাগনেরা মিলে পুরো পরিবারটিকে নৃশংসভাবে হত্যা করেন।

এ ঘটনায় নিহত পপি সুলতানার বাবা মোয়াজ্জেম হোসেন বাদী হয়ে নিয়ামতপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করা হলেও প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে গ্রেপ্তারকৃত শহিদুল ইসলাম, সবুজ রানা ও শাহিন মণ্ডলকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান অব্যাহত রেখেছে।

প্রতিনিধি/একেবি