জেলা প্রতিনিধি
২২ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৩৩ পিএম
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় মাদক সেবনের ঘটনা দেখে ফেলাকে কেন্দ্র করে ভাতিজার ওপর ছুরিকাঘাত এবং তাকে রক্ষা করতে গিয়ে বকুল বেগম (৫৫) নামে এক নারী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও ৩ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।
বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার রহিমপুর ইউনিয়নের সিদ্ধেশ্বরপুর গ্রামে এ চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত হেলিম মিয়াকে (৪৫) গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি ওই গ্রামের মৃত আশিক মিয়ার ছেলে।
স্থানীয় ও নিহতের স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, হেলিম মিয়াকে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় দেখতে পান তার ভাতিজা সাইদুল ইসলাম (২৫)। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে হেলিম বুধবার দুপুরে ধারালো ছুরি দিয়ে সাইদুলের ওপর হামলা চালান। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রাণ বাঁচাতে সাইদুল পাশের বাড়ির বাসিন্দা বকুল বেগমের ঘরে আশ্রয় নেন। কিন্তু হামলাকারী হেলিম মিয়া তাকে ধাওয়া করে ওই বাড়িতে ঢুকে পুনরায় সাইদুলকে ছুরিকাঘাত করতে থাকেন। এ সময় গৃহকর্ত্রী বকুল বেগম বাধা দিতে এগিয়ে এলে তাকেও এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করা হয়। এতে ঘটনাস্থলেই বকুল বেগমের মৃত্যু হয়।

চিৎকার শুনে সাইদুলের ভাই আমিনুল ইসলাম ও বকুল বেগমের জামাতা ওয়াদুদ মিয়া এগিয়ে এলে তাদের ওপরও হামলা চালানো হয়। এতে তারা গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে পাঠান।
খবর পেয়ে কমলগঞ্জ থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঘাতক হেলিম মিয়াকে গ্রেফতার করে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় রহিমপুর ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সিতাংশু কর্মকার বলেন, হামলাকারী হেলিম মিয়া খুবই খারাপ লোক। এর আগেও একাধিকবার জেল কাটছে। সে দীর্ঘদিন থেকে মাদকের সঙ্গে জড়িত। আজ তারই ছুরিকাঘাতে ৪ জন গুরুতর আহত হয়। এর মাঝে ঘটনাস্থলে ১ জনের মৃত্যু হয়। বাকি ৩ জন সিলেট এমএ জি ওসমানী হাসপাতাল ও মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
কমলগঞ্জ থানার ওসি আব্দুল আউয়াল বলেন, নেশা করতে দেখে ফেলায় ক্ষিপ্ত হয়ে ঘাতক এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। আমরা ঘাতক হেলিম মিয়াকে গ্রেফতার করেছি। এ ঘটনায় থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। পরিস্থিতি এখন পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
প্রতিনিধি/এসএস