images

সারাদেশ

পরীক্ষা কেন্দ্রেই ভেঙে গেল জান্নাতুলের স্বপ্ন

জেলা প্রতিনিধি

২২ এপ্রিল ২০২৬, ০১:০৬ এএম

রিকশাচালক বাবার পক্ষে মেয়ের লেখাপড়ার খরচ চালানো ছিল খুবই কষ্টকর। তবু মেয়ের ইচ্ছের কথা চিন্তা করে সংসার খরচের টাকা বাঁচিয়ে এসএসসি (দাখিল) পরীক্ষার ফরম পূরণ করেছিলেন তিনি। মেয়েও পুরোদমে পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নেয়।

ভালো পরীক্ষা দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে বাবা-মা, প্রতিবেশীদের কাছে দোয়া নিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে যায় জান্নাতুল ফেরদৌস। কিন্তু সব ভেস্তে গেল এক নিমিষেই। পরীক্ষা কেন্দ্রে গিয়ে সব সহপাঠী প্রবেশপত্র পেলেও জান্নাতুলের প্রবেশপত্র আসেনি। যার কারণে পরীক্ষা দিতে পারেনি জান্নাতুল। আশা ভঙ্গ মন নিয়ে পরীক্ষা না দিয়ে বাড়ি ফিরে আসে জান্নাতুল।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার আলিম মাদরাসা পরীক্ষা কেন্দ্রে এই ঘটনাটি ঘটে।

এসএসসি পরীক্ষার্থী জান্নাতুল ফেরদৌসের বাড়ি উপজেলার বালুয়া মাসুমপুর ইউনিয়নের সন্তোষপুর হাচিয়া গ্রামে। বুজরুক সন্তোষপুর কারামতিয়া ফাজিল মাদরাসা থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এবারের দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল তার। জান্নাতুলের বাবা জিয়াউর রহমান পেশায় একজন রিকশাচালক।

জান্নাতুল ফেরদৌস অভিযোগ করে বলেন, ‘পরীক্ষার আগেই অন্য প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র দিলেও আমাদের পরীক্ষার দিনই কেন্দ্রে প্রবেশপত্র দেওয়া হয়। সেখানে প্রবেশপত্রের জন্য ৫০০ টাকা করে নেওয়া হয়। আজ সবাই প্রবেশপত্র পেলেও আমি প্রবেশপত্র পাইনি। যার কারণে পরীক্ষা দিতে পারি নাই। বিষয়টি জানাজানি হলে কেন্দ্রের কর্তৃপক্ষ তাকে মাদরাসার অধ্যক্ষ এ কে মোনায়েম সরকারের কাছে নিয়ে যায়। তখন অধ্যক্ষ স্যার আমাকে বলেন, ‘মা, এ বছর তোমার পরীক্ষা দেওয়া হলো না। সামনের বছর পরীক্ষা দিতে যা খরচ হবে সব আমি দেব।’ এরপর রবিউল স্যার ও মাদরাসার দফতরি বাদল ভাই আমাকে বাড়িতে রেখে যায়। তারা আমার আম্মুকে দুই হাজার টাকা দিতে চাইছিল। আম্মু সেই টাকা নেয়নি। তারা দুই হাজার কেন লাখ টাকা দিলেও তো আমার এক বছর ফিরিয়ে দিতে পারবে না।’ এসময় কান্না করে জান্নাতুল বলে, ‘আমি এই বছরেই পরীক্ষা দিতে চাই।’

জান্নাতুলের মা এসমোতারা বলেন, ‘পরীক্ষার ফরম পূরণের সময় আমাদের কাছে ৩ হাজার টাকা চাইছিল। আমরা ২ হাজার ৩০০ টাকা ফরম পূরণের জন্য দেই। এই টাকা আমরা এক মাস একবেলা না খেয়ে জমাইছি। অথচ মেয়ে আমার পরীক্ষা দিতে পারল না। মেয়ে লেখাপড়া করে চিকিৎসক হবার চায়। সেই স্বপ্ন ভেঙে গেল আমার মেয়ের। আমাকে শিক্ষকরা দুই হাজার টাকা দিয়ে বিষয়টি মীমাংসা করতে বলে। টাকা নিয়ে কী করব? আমার মেয়ে যাতে পরিক্ষা দিতে পারে সেই ব্যবস্থা করলে মেয়ের স্বপ্ন পূরণ হইবে।’

এ বিষয়ে বুজরুক সন্তোষপুর কারামতিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদরাসার অধ্যক্ষ এ কে মোনায়েম সরকার ঢাকা মেইলকে বলেন, আগে থেকে বিষয়টি জানতাম না। কী কারণে ফরম ফিলাপ হলো না, সেটা খতিয়ে দেখা হবে। দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মিঠাপুকুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. পারভেজ বলেন, ‘বিষয়টি জানা ছিল না। সাংবাদিকদের (আপনাদের) মাধ্যমে জেনেছি। এ বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে প্রবেশ পত্র না পাওয়া কিংবা পরীক্ষা দিতে না পারার বিষয়টি সকালে জানতে পারলে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ ছিল।’

প্রতিনিধি/জেবি