জেলা প্রতিনিধি
২১ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৩০ পিএম
পঞ্চগড়ে একটি পরিত্যক্ত জমিতে সুপারি বাগানে কাজ করার সময় মাটির নিচ থেকে মর্টার শেল সদৃশ একটি বস্তু উদ্ধার হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বিকেলে পঞ্চগড় পৌরসভার পশ্চিম জালাসী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জমির মালিক হোসেন আলী তার জমিতে সুপারি বাগান করার উদ্দেশে শ্রমিক দিয়ে নালা কাটার কাজ করাচ্ছিলেন। কাজের একপর্যায়ে মাটির প্রায় এক ফুট নিচে কোদালের আঘাতে ধাতব কোনো বস্তুর শব্দ পাওয়া যায়। পরে মাটি খুঁড়ে একটি মর্টার শেল সদৃশ বস্তু উদ্ধার করেন শ্রমিকরা।

প্রাথমিকভাবে বস্তুটি শনাক্ত করতে না পেরে শ্রমিকরা সেটি বাড়িতে নিয়ে যান এবং পরিষ্কার করেন। পরে বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে জমির মালিক বিভিন্ন মাধ্যমে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন এটি বিস্ফোরক হতে পারে। এরপর তিনি সদর থানা পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মর্টার শেলটি উদ্ধার করে নিরাপত্তা বলয় তৈরি করে।
স্থানীয়দের দাবি, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় এ এলাকায় পাকিস্তানি সেনারা একাধিক মর্টার শেল নিক্ষেপ করেছিল। ধারণা করা হচ্ছে, উদ্ধার হওয়া শেলটি সেই সময়ের এবং এটি বিস্ফোরিত হয়নি।

জমির মালিক হোসেন আলী বলেন, আমার এই জমিটি অনেকদিন ধরে পড়েছিল। পরে এটি নালা করে সুপারি বাগান লাগানোর চিন্তা-ভাবনা শুরু করি। আজকে কাজ করার সময় শ্রমিকদের কোদালে একটি লোহার টুকরা উঠে আসে। আমি তো ওইটি কে চিনি না আসলে কি পরে তারা বাসায় নিয়ে যায়। পরে আমার জামাতাকে ফোন দিয়ে জানতে পারি এটি বোম। পরে পুলিশের হাতে আমরা হস্তান্তর করি।
শ্রমিক জাহেদুল ইসলাম বলেন, আমরা হোসেন আলী চাচার জমিতে সুপারির বাগান লাগানোর কাজ করছিলাম। একপর্যায়ে আমি মাটিতে কোদাল দিয়ে কোপ দিতেই আওয়াজ হয়। পরে দেখতে পাই লোহার মতো একটি দণ্ড। পরে এটিকে বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। ধুয়ে এদিকে পরিষ্কার করার সময় একটুবারুদের গন্ধ বের হয়। এটি কি আসলে আমি জানিনা তবে শুনেছি বোমার মতো জিনিস।

সমর আলী নামে ষাটোর্ধ্ব এক শ্রমিক বলেন, আমরা চারজন মিলে জমিতে কাজ করছিলাম। তখন আমার ছেলের কোদালের কোপে একটি দণ্ড বের হয়ে আসে। আমি প্রথমেই এটাকে দেখে চিনতে পেরে বোম হিসেবে তাদেরকে জানাই। কেননা আমাদের এলাকায় যুদ্ধের সময় এই একই জায়গায় তিনটি বোম পড়েছিল। আমার তখন স্পষ্ট মনে আছে আমরা এই এলাকা দিয়ে তখন চলাফেরা করতাম।
মর্টার শেল দেখতে আসা সাখাওয়াত উল্লাহ শাহীন বলেন, আমি দোকানে ছিলাম, পরে জানতে পারি আমাদের তাই একটি মর্টারশেল পাওয়া গেছে জমিতে কাজ করার সময়। পুলিশের সদস্যরা এসে এটিকে ঘিরে রাখে। আমি আগে কখনো মর্টারশেল দেখিনি এই প্রথম দেখলাম।
পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুল ইসলাম বলেন, আসলে বস্তুটি মর্টারশেলের সদৃশ। তবে আমরা এখনো বিস্তারিত বলতি পারছি না কবে তৈরি করা হয়েছে, কোথায় ব্যবহার করা হয়েছিল। ধারণা করা হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের সময়কার এটি। আমরা এটিকে সংরক্ষণ করব। পরে সেনাবাহিনীর বোম্ব ডিস্পোজাল ইউনিটের মাধ্যমে ধ্বংস করা হবে।
প্রতিনিধি/এসএস