জেলা প্রতিনিধি
২১ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৩৬ পিএম
পটুয়াখালী জেলাজুড়ে সংক্রামক ব্যাধি হামের প্রকোপ উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে শিশুরাই এই রোগে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সরেজমিনে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, ধারণক্ষমতার তুলনায় অনেক বেশি রোগী ভর্তি হওয়ায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে চরম চাপের মধ্যে কাজ করতে হচ্ছে।
হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে মাত্র ৩১টি শয্যার বিপরীতে ৮ জন প্রাপ্তবয়স্ক ও ১০৭ জন শিশুসহ মোট ১১৫ জন রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। শয্যা সংকট এতটাই তীব্র যে একটি বেডে চার থেকে পাঁচজন শিশুকে একসঙ্গে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামাল দিতে হাসপাতালের মেঝেতেও অনেক রোগীকে শুয়ে থাকতে দেখা গেছে। এতে রোগীদের দুর্ভোগ বাড়ার পাশাপাশি সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
জেলা সিভিল সার্জন অফিসের তথ্য অনুযায়ী, বছরের শুরু থেকেই হামের রোগীর সংখ্যা বাড়তে শুরু করলেও এপ্রিল মাসে তা প্রকট আকার ধারণ করে।
চলতি বছরের গত ১ জানুয়ারি থেকে গত রবিবার রাত ৯টা পর্যন্ত সন্দেহজনক হামের রোগীর সংখ্যা ৪৬২ জন। পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হওয়া রোগী ৯ জন। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি ৪৩৭ জন এবং সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩১৭ জন। এ ছাড়া ১১৪ জনের নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

হাসপাতালে ভর্তি শিশুদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হঠাৎ জ্বর ও শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দেওয়ার পর দ্রুত অবস্থার অবনতি হচ্ছে।
সদর উপজেলার ইটবাড়িয়া থেকে আসা শিশু মাহিরের মা রুবিনা বেগম বলেন, হঠাৎ জ্বর আসে, পরে গায়ে লাল দানা দেখা দেয়। হাসপাতালে এনে দেখি জায়গা নেই, অনেক কষ্টে চিকিৎসা নিচ্ছি।
একই ধরনের কষ্টের কথা জানান কলাপাড়ার শারমিন আক্তার, দুমকির নাজমা বেগম ও গলাচিপার হাসিনা আক্তার।
পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, হাম অত্যন্ত সংক্রামক ও বায়ুবাহিত রোগ। সময়মতো এমআর টিকা না নেওয়াই এই প্রাদুর্ভাবের অন্যতম প্রধান কারণ। কোনো শিশুর তীব্র জ্বর ও শরীরে লালচে দানা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।
পটুয়াখালীর সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ খালেদুর রহমান মিয়া জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্বাস্থ্য বিভাগ কাজ করে যাচ্ছে। সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন উপজেলায় সভা করা হচ্ছে। যেসব এলাকায় প্রকোপ বেশি, সেখানে টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা হয়েছে।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, হাম প্রতিরোধে শিশুদের নিয়মিত টিকাদান নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি আক্রান্ত শিশুদের আলাদা রাখা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
প্রতিনিধি/এসএস