জেলা প্রতিনিধি
২১ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৪২ পিএম
নওগাঁর নিয়ামতপুরে একই পরিবারের চার সদস্য হত্যা করেছে করেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় থামছে না স্বজনদের আহাজারি। কান্নায় ভেঙে পড়েছেন আত্মীয়স্বজনেরা। তারা বলছেন, দোষীদের শনাক্ত করে সর্বোচ্চ শাস্তি যেন দেওয়া হয়।
সোমবার (২০ এপ্রিল) দিবাগত রাতে উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- বাহাদুরপুর গ্রামের নমির উদ্দিনের ছেলে হাবিবুর রহমান (৩২), হাবিবুরের স্ত্রী পপি সুলতানা (২৫), ছেলে পারভেজ (৯) ও ৩ বছরের মেয়ে সাদিয়া আক্তার।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাতের কোনো এক সময় বাড়ির ভেতরেই পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। ফজরের নামাজের পর দরজা খোলা দেখে প্রতিবেশীরা ভেতরে ঢুকলে তাদের মৃতদেহ দেখতে পায়। পরে থানায় খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়।
হাবিবুর রহমান পেশায় একজন গরু ব্যবসায়ী ছিলেন। মান্দার চৌবাড়িয়া হাটে গরু বিক্রি করে গতকাল সোমবার রাত ৮টার দিকে বাড়িতে আসেন। তার কাছে গরু বিক্রি করার ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা ছিল। কেউ কেউ ধারণা করছেন, দুর্বৃত্তরা হাবিবুরের টাকা লুটের জন্য তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। এছাড়া জমিজমাসংক্রান্ত বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা।
নিহত পপির বাবা মোয়াজ্জেম হোসেন বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন আর বলছিলেন, ‘আমি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবার ফাঁসি চাই। আমার তিন বছরের নাতনিকেও তারা ছাড়েনি।’
নিহত হাবিবুরের বাবা বলেন, জমিজমা-সংক্রান্ত বিষয়ে এমন ঘটনা ঘটতে পারে? আমার মেয়ের জামাই ও নাতিরা এ ঘটনায় জড়িত থাকতে পারে। তারা বিভিন্ন সময়ে আমার ছেলেসহ পরিবারের সবাইকে হত্যার হুমকি প্রদান করে আসছিল।
নিয়ামতপুর থানার ওসি হাবিবুর রহমান বলেন, নিহতদের মধ্যে বাড়ির কর্তা হাবিবুর ও স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। তাঁদের সন্তানদের মাথায় আঘাত করে হত্যা করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ডাকাতির উদ্দেশে দুর্বৃত্তরা ওই বাড়িতে প্রবেশ করেছিল। পরে পরিচয় প্রকাশ হওয়ার ভয়ে ওই বাড়ির কর্তাসহ পরিবারের অন্য সদস্যদের হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, এই ঘটনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ক্রাইম, জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিপি) এবং থানা পুলিশের সমন্বয়ে তিনটি পৃথক পৃথক টিম হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে কাজ করছে। আসামি গ্রেফতারে তৎপর রয়েছে।
প্রতিনিধি/ এজে