জেলা প্রতিনিধি
২০ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:২৬ পিএম
গাইবান্ধার সাত উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে মৃদু তাপপ্রবাহের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে তাপদাহ। আর রাত পোহালেই এসএসসি পরীক্ষা। এরই মধ্যে বেড়েছে বিদ্যুতের লোডশেডিং। শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে কয়েকগুণ বেশি লোডশেডিং চলছে। এ অবস্থায় শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার বিঘ্নসহ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত কয়েক দিন ধরে তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে বায়ুর আর্দ্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে শিশু-শিক্ষার্থীসহ সব বয়সী মানুষ। সেইসঙ্গে বিদ্যুতের চাহিদাও বেড়েছে। এরই মধ্যেই পাল্লা দিয়ে শুরু হয়েছে ঘন ঘন লোডশেডিং। গ্রাম কিংবা শহরে দিন-রাতের অধিকাংশ সময়ই চলছে বিদ্যুতের লুকোচুরি। এতে করে ঠিকমতো সেচ মোটর চালানো যাচ্ছে না। ফলে চলতি বোরো মৌসুমের ধানের আবাদ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা।
সরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক গুলোতে ঘন ঘন বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের কারণে রোগী ও স্বজনদের মাঝে অস্তিত্বের ছাপ লক্ষ্য করা গেছে। অন্যদিক তীব্র গরমে খেটে মানুষদের মাঝে হাঁসফাঁস শুরু হয়ে গেছে।
গাইবান্ধা শহরের ইজিবাইক চালক আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, গরমের কারণে চলাফেরা করা মুশকিল হয়ে পড়ছি। অন্যদিকে কারেন্ট না থাকায় অটোতে চার্জ দেওয়ার অসুবিধা হচ্ছে। কামাই না করতে পারলে কী করে খামো?
কৃষক শাফিউল ইসলাম বলেন, বোরো ধান আমাদের প্রধান ফসল। সারা বছর এই ধানের উপরই আমরা নির্ভরশীল। এ সময়টা সব সময় জমিতে পানি রাখতে হয়। পানি না থাকলে ধানের সমস্যা হচ্ছে। কয়েক দিন ধরে কারেন্ট আসে আর যায়। এ নিয়ে অনেক চিন্তায় আছি।
শহরের ব্রিজরোডের ব্যবসায়ী ছবেদুল মিয়া বলেন, সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত কয়েকবার বিদ্যুৎ চলে যায়। ফ্রিজে রাখা মালামাল নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।
এসএসসি পরীক্ষার্থীর অভিভাবক আবু কাশেম সোহাগ বলেন, রাত পোহালেই বাচ্চাদের পরীক্ষা। এর মধ্য ঘন ঘন লোডশোডিং। কীভাবে বাসায় পড়াশুনা করবে। দ্রুত বিদ্যুতের সমস্যা সমাধানের দাবি করেন তিনি।
নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেড (নেসকো) গাইবান্ধার নির্বাহী প্রকৌশলী ফজলুর রহমান বলেন, গাইবান্ধা জেলা শহরে বিদ্যুতের চাহিদা ১৪ মেগাওয়াট। বর্তমানে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে সাড়ে ৮ থেকে ৯ মেগাওয়াট। সে হিসেবে ঘাটতি রয়েছে আড়াই মেগাওয়াট। এ কারণে এলাকাভেদে লোডশেডিং হচ্ছে।
গাইবান্ধা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার সানজিদ কুমার বলেন, মাসের শুরু থেকেই গরম বাড়ছে। সে কারণে বিদ্যুতের চাহিদাও বাড়ছে। গ্রামাঞ্চলে বোরো চাষের জন্য বিদ্যুতের বাড়তি চাহিদা রয়েছে। বর্তমানে গ্রামে বিদ্যুতের চাহিদা ৬০ মেগাওয়াট। পাওয়া যাচ্ছে ৪০ মেগাওয়াট। এক্ষেত্রে ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ঘাটতি থেকে যাচ্ছে।
গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক আতিকুর রহমান বলেন, বোরো ধান ফলনের শেষ সময়। ধানের কলা সম্পূর্ণ হওয়ার সময়। বর্তমানে প্রতিটি জমিতে পানি ধরে রাখা জরুরি। কৃষকরা ঠিক মতে সেচ দিতে না পারলে ধানের ফলনে ব্যাঘাত ঘটবে।
প্রতিনিধি/এসএস