images

সারাদেশ

দৌলতপুরে অবহেলার বলি, এসএসসি পরীক্ষায় বসতে পারল না ইসরাত

জেলা প্রতিনিধি

২০ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:২০ পিএম

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার জে এম জি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক গাফিলতির অভিযোগে এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারছে না ইসরাত জাহান (১৭) নামে এক শিক্ষার্থী। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থী ও তার পরিবারের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।

ইসরাত জাহান উপজেলার মহিষকুন্ডি এলাকার মাহাবুল হক (সেনা সদস্য, বর্তমানে মিশনে রয়েছে) এর মেয়ে।

ভুক্তভোগী ইসরাত জাহান জানান, তিনি ২০২৪ সালে জে এম জি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণিতে নিবন্ধন করেন এবং ২০২৫ সালে নিয়ম অনুযায়ী ফরম পূরণও করেন।

তবে হঠাৎ করে প্রায় দুই মাস আগে তাকে জানানো হয়, তার নাকি রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হয়নি। পরবর্তীতে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত অর্থ গ্রহণ করে সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দিলেও শেষ পর্যন্ত তা কার্যকর হয়নি।

kustia

তিনি আরও বলেন, আগামী ২১ এপ্রিল আমার এসএসসি পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু গত ১৮ এপ্রিল আমাকে জানানো হয়, আমি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারব না। শিক্ষকদের গাফিলতির কারণে আমার জীবনের মূল্যবান দুইটি বছর নষ্ট হয়ে গেল। এ ঘটনায় তিনি দৌলতপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ও জেলা শিক্ষা অফিসারের মাধ্যমে যশোর শিক্ষা বোর্ডে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন এবং সংশ্লিষ্টদের শাস্তি কামনা করেছেন।

এ বিষয়ে জে এম জি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আরিফুল ইসলাম নান্নুর কাছে জানতে চাইলে, তিনি শুরুতে বিষয়টির দায় আংশিকভাবে শিক্ষার্থীর ওপর দিলেও পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির বিষয়টি স্বীকার করেন।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞানের এসএসসি পরীক্ষার্থী পেল মানবিক প্রবেশপত্র, দুশ্চিন্তায় পরিবার

তিনি বিরক্তির স্বরে জানান, ফরম ফিলাপের জন্য তিনবার টাকা নেওয়ার অভিযোগ সঠিক নয়। তার দাবি, ছাত্রীটি নিয়মিত স্কুলে উপস্থিত ছিল না। তবে তিনি স্বীকার করেন, শিক্ষার্থী অনিয়মিত হলেও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে যথাযথ খোঁজখবর নেওয়ার দায়িত্ব ছিল, যা দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক পালন করেননি।

তিনি আরও বলেন, পরীক্ষা একেবারে দ্বারপ্রান্তে চলে এসেছে, এই মুহূর্তে আর কিছু করার সুযোগ নেই। তবে আমি শিক্ষার্থীর বাবার সঙ্গে বিস্তারিত কথা বলেছি। আগামী বছর যেন সে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একইসঙ্গে দায়িত্বে অবহেলা করা শিক্ষকের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে, ইসরাত জাহানের পরিবারের সদস্যরা বিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং দ্রুত বিচার দাবি করেছেন।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ফারুক আহমেদ বলেন, এ বিষয়ে এখনো আমি অবগত নই। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অন্যদিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার অনিন্দ্য গুহ জানান, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। ভুক্তভোগী যোগাযোগ করলে আমি বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখব।

ঘটনাটি স্থানীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক তদারকির দুর্বলতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

প্রতিনিধি/এসএস