জেলা প্রতিনিধি
২০ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:২১ পিএম
নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার আলীপুর গ্রামের রাস্তাটির উন্নয়ন কাজ গ্রামের প্রভাবশালী এক ব্যক্তির বাধায় বন্ধ হয়ে গেছে। এতে এলাকাবাসী বেশ বিপাকে পড়েছেন।
প্রভাবশালী ওই ব্যক্তির নাম বজলুর রহমান। তিনি ওই গ্রামের বাসিন্দা।
কয়েকদিন আগে তিনি ওই রাস্তার উন্নয়ন কাজে বাধা দেন। অভিযোগ পেয়ে বিষয়টি তদন্ত করছে নিয়েছে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা।
আজ সোমবার (২০ এপ্রিল) উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মেহেদী হাসান মৃধা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার সুয়াইর ইউনিয়নের আলীপুর গ্রামের পাকা রাস্তা থেকে গ্রামের ভেতর দিয়ে দিয়ে একটি মাটির রাস্তা চলে গিয়েছে। দীর্ঘ বছরের পুরোনো এই রাস্তা দিয়ে গ্রামের মানুষ চলাচল করে। যানবাহন দিয়ে উৎপাদিত ফসলসহ নানা মালামাল পরিবহন করেন গ্রামের লোকজন। তবে রাস্তাটি মাটির হওয়ায় বর্ষাকালে কাদা জমে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়। তাই জনদুর্ভোগ দূর করতে ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) প্রকল্পের আওতায় রাস্তাটির ১৬০ মিটার অংশ ইট দিয়ে সলিং করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এতে বরাদ্দ দেওয়া হয় এক লাখ ২৫ হাজাট টাকা। এ প্রকল্পের সভাপতি স্থানীয় ইউপি সদস্য আল মামুন। কিন্তু সলিংয়ের কাজ শুরু করার পরপরই এতে বাধা দেন গ্রামের বজলুর রহমান নামে এক প্রভাবশালী ব্যক্তি। রাস্তাটি তার জমির ওপর দিয়ে গেছে দাবি করে তিনি কাজে বাধা দেন। ফলে রাস্তাটির কাজ বন্ধ হয়ে যায়। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জানালে তারা রাস্তার কাজ বন্ধ করে তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছেন। এদিকে রাস্তা খুঁড়ে কিছু ইট বিছিয়ে কাজ বন্ধ রাখায় চলাচলে আগের চেয়েও বেশি বিপাকে পড়েছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. ইকবাল হোসেন জানান, এই রাস্তাটি অনেক পুরোনো। ১৯৯১ সালে বজলুর রহমানকে পিআইসি সভাপতি করে রাস্তাটি করা হয়েছিল। পরে আরও বেশ কয়েকবার রাস্তাটিতে সরকারি টাকায় মাটি কাটা হয়েছে। এখন সরকারি বরাদ্দে রাস্তায় ইটের সলিং করা হচ্ছে। কাজ চলমান অবস্থায় বজলুর রহমান বাধা প্রদান করায় রাস্তাটি সংস্কার কাজ বর্তমানে বন্ধ রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, গ্রামের মানুষের চলাচলের এটিই একমাত্র রাস্তা। এই বোরো মৌসুমে ধান ঘরে তোলা, ফসল হাট বাজারে নিয়ে যাওয়াসহ সব যাতায়াত এই রাস্তা দিয়েই করতে হয়। এলাকার পোলাপান স্কুল-কলেজে যাতায়াত করে এই রাস্তা দিয়ে। আগে তো কাদা দিয়ে হলেও যাতায়াত করা যেত, এখন সামান্য কাজের পর বন্ধ করায় চলাচল করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। সমস্যা সমাধান করে দ্রুত রাস্তার কাজ সম্পন্ন করার দাবি জানান তিনি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য ও প্রকল্পের সভাপতি আল মামুন জানান, এটি গ্রামের অনেক পুরোনো একটি রাস্তা।
প্রথম যখন রাস্তাটি করা হয় তখন এই প্রকল্পের সভাপতি ছিলেন বজলুর রহমান। পরে দ্বিতীয়বার আমি নিজে সরকারি বরাদ্দের টাকা দিয়ে রাস্তাটি সংস্কার করে দেই। প্রায় ৮০০ মিটার দৈর্ঘ্যের রাস্তাটির কিছু অংশে এঁটেল মাটি থাকায় বর্ষায় কাদা লেগে থাকে। এতে চলাচল করতে গ্রামের মানুষের কষ্ট হয়। এবার টিআর প্রকল্পের বরাদ্দে রাস্তাটির ১৬০ মিটার অংশ ইট দিয়ে সলিং করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে রাস্তায় সলিংয়ের শুরু হয়ে কিছু কাজ হওয়ার পর বজলুর রহমান সরকারি রাস্তাটি নিজের দাবি করে কাজে বাধা দেয়। ইউএনও মহোদয়কে বিষয়টি জানালে তিনি পিআইওর কাছে যেতে বলেন। পরে পিআইও রাস্তার কাজ বন্ধ করে বিষয়টি তদন্তের উদ্যোগ নেন।
তিনি আরও বলেন, রাস্তার কিছু অংশ বজলুর রহমানের জায়গার ওপর দিয়ে গিয়েছে। কিন্তু রাস্তার জায়গা তো বহু বছর আগেই তিনি নিজের ইচ্ছাতেই দিয়েছেন। এখন কেন তিনি বাধা দিচ্ছেন বুঝতে পারছি না।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত বজলুর রহমান বলেন, রাস্তাটি আমার বাড়ির ওের দিয়ে গিয়েছে। কিন্তু সলিং করবে এ বিষয়ে আমাকে একবার জিজ্ঞেসও করেনি। আর মেম্বার মামুন ও এলাকার ইকবাল মিলে রাস্তার কাজটা করছেন। তারা চিহ্নিত আওয়ামী লীগের লোক। এই সময়ে আওয়ামী লীগের লোকজন রাস্তার কাজ করবে এটাও দুঃখজনক। তাই বাধা দেওয়া হয়েছে। বিএনপির সাধারণ একজন মানুষ এই রাস্তার কাজ করলে আমার কোনো আপত্তি থাকবে না। তিনি একসময় বিএনপির রাজনীতি করতেন বলেও জানান।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মেহেদী হাসান বলেন, বাধা দেওয়া হয়েছে জেনে রাস্তার কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। তদন্ত করে সমস্যা সমাধান করে ফের কাজ শুরু হব।।
প্রতিনিধি/এসএস