images

সারাদেশ

মাদক কারবারির প্রাণনাশের হুমকিতে ঘরবাড়ি ছাড়া এক পরিবারের ৬ সদস্য

জেলা প্রতিনিধি

২০ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৪৮ পিএম

মাদক কারবারি ও তার সহযোগীদের প্রাণনাশের হুমকিতে একটি পরিবারের ছয় সদস্য গ্রাম ছেড়ে শহরে আত্মগোপন করে আছেন। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, পুলিশে অভিযোগ দিয়েও তারা কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না।

সোমবার (২০ এপ্রিল) বেলা ১১টায় নেত্রকোনা শহরের কুড়পাড় এলাকায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী মালা আক্তার লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ করেন।

মালা আক্তার জেলার আটপাড়া উপজেলার জালালপুর গ্রামের মো. রতন মিয়ার স্ত্রী। অভিযুক্ত মাদক কারবারি আসমা আক্তার সম্পর্কে তার জা।

মালা আক্তার জানান, স্বামী-সন্তানসহ তাদের ছয় সদস্যের পরিবারটি দীর্ঘ দিন ধরে কুমিল্লা শহরের একটি পোশাক কারখানায় কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছিল। তাদের সঙ্গেই বসবাস করতেন তার দেবরের স্ত্রী আসমা আক্তার। স্বামীর মৃত্যুর পর আসমা কুমিল্লার এক মাদক কারবারিকে বিয়ে করে নিজেও এই অবৈধ কারবারে জড়িয়ে পড়েন। তিনি নিয়মিত কুমিল্লা থেকে ইয়াবা ও গাঁজাসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য এনে নেত্রকোনার আটপাড়া ও জালালপুর এলাকায় বিক্রি করতেন।

মালা আক্তার আরও জানান, গত বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি রাতে তার ছেলে রিয়াদ ও আসমা আক্তার একই বাসে কুমিল্লা থেকে নেত্রকোনার উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথে কেন্দুয়া সড়কে ডিবি পুলিশের অভিযানে আসমা আক্তার বিপুল পরিমাণ মাদকসহ গ্রেপ্তার হন। এরপর থেকেই মালা আক্তারের পরিবারের ওপর নেমে আসে প্রতিশোধমূলক হুমকি।

মালার অভিযোগ, জেল থেকে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর আসমা আক্তার কুমিল্লার মাদক কারবারি সহযোগীদের নিয়ে তাদের ওপর হামলা ও মারধর করেন এবং প্রাণনাশের হুমকি দিতে থাকেন। একপর্যায়ে তাদের একটি বাসায় আটকে রেখে নির্যাতন করা হয় এবং বাসা ছাড়তে বাধ্য করা হয়। পরবর্তীতে প্রাণভয়ে তারা চাকরি ছেড়ে গ্রামের বাড়ি আটপাড়ায় আশ্রয় নিলেও সেখানে হুমকি অব্যাহত থাকে। ফলে বাধ্য হয়ে তারা পুনরায় ভিটেমাটি ছেড়ে বর্তমানে নেত্রকোনার লক্ষ্মীগঞ্জ এলাকার আঁতকাপাড়া গ্রামে এক আত্মীয়ের বাসায় আত্মগোপন করে আছেন।

ভুক্তভোগী পরিবারটি জানায়, এ ঘটনায় নেত্রকোনা মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে তারা চরম আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

সংবাদ সম্মেলনে মালা আক্তার বলেন,‘আমরা গার্মেন্টসে কাজ করে কোনোভাবে সংসার চালাতাম। এখন সব ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছি। খেয়ে না খেয়ে দিন কাটছে; আমাদের বাঁচার কোনো উপায় নেই। আমরা নিরাপত্তা চাই।’ তিনি অবিলম্বে অভিযুক্ত আসমা আক্তার ও তার সহযোগীদের গ্রেপ্তার এবং নিজের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত আসমা আক্তার বলেন,‘আমি কুমিল্লা থেকে ইয়াবা নিয়ে আসছি—এটি ডিবি পুলিশের জানার কথা নয়। মালার ছেলে আমার সঙ্গে ছিল, সেই তথ্য দিয়ে আমাকে গ্রেপ্তার করিয়েছে। দেড় মাস পর আমি জামিনে ছাড়া পেয়েছি। তবে আমি তাদের কোনো হুমকি দিইনি বা নির্যাতনও করিনি। এ নিয়ে এলাকায় সালিশ হবে, সেখানেই সব জবাব দেব।’

বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন সরকার বলেন,‘তাদের বাড়ি যেহেতু আটপাড়ায়, তাই কারো হুমকি থাকলে সেখানেই অভিযোগ করা উচিত। তবে আমার থানায় এমন কোনো অভিযোগ দেওয়া হয়েছে কি না, তা এই মুহূর্তে মনে করতে পারছি না। বিষয়টি আমি খতিয়ে দেখব।’

প্রতিনিধি/একেবি