images

সারাদেশ

নবাবগঞ্জে মাদরাসার দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী নির্যাতনের অভিযোগ

উপজেলা প্রতিনিধি

২০ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০৭ এএম

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার করপাড়া জৈনতপুর এলাকায় অবস্থিত আশরাফুল উলূম মাদরাসায় চার শিক্ষার্থীকে মারধর ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে নবাবগঞ্জ থানায় অভিযোগ দায়ের করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেছেন তারা।

থানায় অভিযোগকারী মুন্নু কাজী জানান, গত ১০ দিনের ব্যবধানে মাদরাসার শিক্ষক মো. জাকারিয়া ও মো. নান্দান তার ছেলে কাজী জুনায়েতসহ আরও তিন শিক্ষার্থীকে বেধড়ক মারধর করে আহত করেন। মাদরাসা কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় তিনি গত সোমবার (১৩ এপ্রিল) থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। এ ঘটনার পর চার শিক্ষার্থীর পড়াশোনা নিয়ে চরম উদ্বেগে রয়েছে তাদের পরিবার।

কাজী জুনায়েতের মা জান্নাতুল আক্তার বলেন, ৭ বছর বয়সী আমার ছেলেকে চলতি মাসের ১০ তারিখে মক্তব শাখার আবাসিকে ভর্তি করি। বাবা-মায়ের জন্য কান্না করায় তাকে মারধর করা হয়। পরে গোসলে দেরি হওয়ায় সকাল সাড়ে ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত কান ধরে উঠবস করানো হয়। এতে তার কান দিয়ে রক্ত বের হয়। বিষয়টি আমাদের জানানো হয়নি। পরে ছেলের কাছ থেকেই জানতে পারি। প্রতিবাদ করলে আমাদের ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়।

অন্য ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী সাঈদ হোসেনের মা সুমি আক্তার অভিযোগ করেন, আমার সন্তানকে ভর্তি করার কয়েকদিন পর দেখতে গিয়ে দেখি সে অনেক কান্না করছে। পরে জানতে পারি, দুষ্টুমির অভিযোগে শিক্ষক জাকারিয়া তার পায়ের ওপর দাঁড়িয়ে ছিলেন এবং লাঠি দিয়ে হাতে আঘাত করেন। এখনো সেই আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। আমি আমার সন্তানকে মাদরাসা থেকে নিয়ে এসেছি এবং বিচার দাবি করছি।

আরেক শিক্ষার্থীর দাদা করম আলী মুন্সী অভিযোগ করে বলেন, আমার নাতি সিফাহ হোসেনকে সামান্য দুষ্টুমির জন্য পা ও ঘাড়ে লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। সে এখনো ঠিকমতো হাঁটতে পারছে না। এই অমানবিক নির্যাতনের বিচার চাই।

এ বিষয়ে জানতে মাদরাসার প্রিন্সিপাল আশরাফুল ইসলামের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

অন্যদিকে নবাবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনোয়ার আলম আজাদ বলেন, ঘটনার সময় আমি ছুটিতে ছিলাম। বর্তমানে ঢাকায় আছি। ফিরে গিয়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

/এএস