images

সারাদেশ

গাজীপুরে সংরক্ষিত নারী আসনে আলোচনায় যারা

১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৪০ পিএম

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন ঘিরে গাজীপুরের রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।

স্থানীয় রাজনীতি ও দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকার কারণে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিএনপির বেশ কয়েকজন নেত্রীর নাম সামনে এসেছে। দলীয় ত্যাগ, আন্দোলনে সক্রিয়তা এবং সাংগঠনিক দক্ষতার ভিত্তিতে তারা এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। তবে দলীয় মূল নেতৃত্বে না থাকলেও আলোচনায় জায়গা করে নিয়েছেন বিএনপির একজন নারী আইনজীবীও।

দলীয় সূত্র ও তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী প্রার্থীদের তালিকায় রয়েছেন শেখ ফরিদা জাহান স্বপ্না, জান্নাতুল ফেরদৌসী, খাদিজা আক্তার বীনা চৌধুরী, শিরিন চাকলাদার এবং অ্যাডভোকেট দিলারা সুলতানা সেতুসহ আরও কয়েকজন। তারা ইতিমধ্যে দলীয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন এবং কেউ কেউ তা জমাও দিয়েছেন।

শেখ ফরিদা জাহান স্বপ্না: 

তিনি গাজীপুর জেলা বিএনপি ও শ্রীপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি হিসেবে দীর্ঘদিন রাজনীতিতে সক্রিয়। প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও তিনি শ্রীপুর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন। রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং রাজনৈতিক কারণে ব্যক্তিগত জীবনে নির্যাতনের শিকার হওয়ার অভিজ্ঞতা তাকে তৃণমূল পর্যায়ে পরিচিত মুখ করে তুলেছে। তার প্রয়াত স্বামী স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছাড়াও জেলা বিএনপির নেতা এবং গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ছিলেন। এবার সংরক্ষিত আসনে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়ে তিনি আশাবাদী।

জান্নাতুল ফেরদৌসী: 

ছাত্র রাজনীতি থেকে উঠে আসা এই নেত্রী উপজেলা মহিলা দলের দায়িত্ব পালন শেষে দুইবার জেলা মহিলা দলের সভাপতি হিসেবে সংগঠন পরিচালনা করছেন। প্রয়াত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আ স ম হান্নান শাহকে নিজের রাজনৈতিক পথপ্রদর্শক হিসেবে উল্লেখ করে তিনি দলীয় মনোনয়নের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

খাদিজা আক্তার বীনা চৌধুরী: 

গাজীপুর মহানগর মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক খাদিজা আক্তার বীনা চৌধুরীও আলোচনায় রয়েছেন। ছাত্রদলের রাজনীতির মাধ্যমে তার পথচলা শুরু। আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় অংশগ্রহণের পাশাপাশি হামলা-মামলার মুখেও তিনি রাজপথে সরব ছিলেন। তৃণমূল নেতাকর্মীদের একটি বড় অংশ তাকে শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে দেখছেন।

শিরিন চাকলাদার: 

দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ত্যাগ ও নির্যাতনের শিকার হওয়ার কারণে আলোচনায় রয়েছেন মহানগর মহিলা দলের সাবেক সভাপতি শিরিন চাকলাদার। ২০১৪ সালে আন্দোলনের সময় পুলিশের হামলায় গুরুতর আহত হয়ে তিনি স্থায়ীভাবে শারীরিক ক্ষতির শিকার হন। এরপরও দমে না গিয়ে দলীয় রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন তিনি।

অ্যাডভোকেট দিলারা সুলতানা সেতু: 

অন্যদিকে, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত অ্যাডভোকেট দিলারা সুলতানা সেতুও প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন। তিনি বর্তমানে পেশাজীবী দলের নেতৃত্বে রয়েছেন এবং নারী অধিকারসহ সাধারণ মানুষের পক্ষে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।

দলীয় একাধিক সূত্র জানায়, রাজনৈতিক ভারসাম্য, আঞ্চলিক প্রতিনিধিত্ব এবং সাংগঠনিক দক্ষতা বিবেচনা করে দলের হাইকমান্ড যোগ্য প্রার্থী নির্বাচন করবেন।

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে ত্যাগ, আন্দোলনে ভূমিকা এবং সংগঠনে গ্রহণযোগ্যতা এই তিন মানদণ্ডেই প্রার্থীরা নিজেদের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছেন। শেষ পর্যন্ত কার মাথায় মনোনয়নের মুকুট ওঠে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

এ ব্যাপারে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ডা. মাজহারুল আলম বলেন, ‘গাজীপুরে মহিলা দলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ বেশ কয়েকজন নেত্রী সংরক্ষিত আসনের জন্য দলীয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন এবং কেউ কেউ জমাও দিয়েছেন। বিএনপির হাইকমান্ড সার্বিক দিক বিবেচনা করে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।’

প্রতিনিধি/একেবি