উপজেলা প্রতিনিধি
১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:১৮ পিএম
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার সস্তাপুর এলাকায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাহিনা আক্তার (৪২) নামে এক গৃহবধূকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা চালিয়েছে স্থানীয় সন্ত্রাসীরা। গত ১১ এপ্রিল সন্ধ্যায় ফতুল্লা মধ্য সস্তাপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটলেও শুক্রবার পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।
ঘটনার দিন রাতেই ভুক্তভোগী শাহিনা আক্তার ফতুল্লা মডেল থানায় গিয়ে বোরহান উদ্দিন (৩৩), সোলেমান (৪০) ও আসলামসহ (৩৫) পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে মামলা করতে যান। অভিযোগ রয়েছে, পুলিশ শুরুতে মামলা নিতে গড়িমসি করে এবং বাদীর এজাহারকে কেবল ‘অভিযোগ’ হিসেবে গ্রহণ করে। পরবর্তীতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শাহিনার শারীরিক অবস্থার অবনতি দেখে গত ১৫ এপ্রিল মামলাটি নথিভুক্ত করা হয় (মামলা নম্বর-৪৪/০৪/২০২৬)।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, জুবায়ের (২৭) নামে এক শিক্ষক ওই এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে একটি কোচিং সেন্টার চালাতেন। অভিযুক্তরা বিভিন্ন সময় ওই শিক্ষকের কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিল। অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে জুবায়ের দুই মাসের অগ্রিম ভাড়া পরিশোধ করে বাসা ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আসামিরা তাকে মারধর ও ভয়ভীতি দেখায়। শিক্ষক জুবায়ের বিষয়টি শাহিনা আক্তারকে জানালে তিনি তাকে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সন্ত্রাসীরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে শাহিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালায়।
গুরুতর আহত শাহিনার চিৎকার শুনে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জের খানপুর ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করেন। হামলায় তার মুখমণ্ডল মারাত্মকভাবে জখম হয়েছে এবং সেখানে ছয়টি সেলাই দিতে হয়েছে। বর্তমানে তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন।
ঘটনার পর সাত দিন পেরিয়ে গেলেও কোনো আসামি গ্রেফতার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীর পরিবার। বাদীর অভিযোগ আসামিরা এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং মামলা তুলে নেওয়ার জন্য অনবরত হুমকি দিচ্ছে। অথচ পুলিশ বলছে তারা পলাতক।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ফতুল্লা থানার সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) কাজী ফেরদাউস জানান আমরা আসামিদের ধরার চেষ্টা করছি, কিন্তু এলাকায় তাদের পাওয়া যাচ্ছে না। তারা পলাতক রয়েছে। তবে আসামিদের গ্রেফতারে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে।
প্রতিনিধি/একেবি