images

সারাদেশ

বাঙলা নববর্ষ শহর জীবনে সীমাবদ্ধ, গ্রামবাংলায় ম্লান

উপজেলা প্রতিনিধি

১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১১:০১ পিএম

বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ বা বাংলা নববর্ষ। একসময় গ্রাম থেকে শহর—সবখানেই ছিল বৈশাখের প্রাণবন্ত আয়োজন। হালখাতা, গ্রামীণ মেলা, পালাগান, লোকজ সংস্কৃতির নানা উপস্থাপনায় মুখর থাকত পুরো জনপদ। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে সেই চিত্র এখন অনেকটাই বদলে গেছে।

নববর্ষ উদযাপন ক্রমেই শহরজীবনে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ছে, হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামীণ ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির জৌলুশ।

বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উপলক্ষে নোয়াখালীর হাতিয়ায় উপজেলা প্রশাসন ও শহরমুখী কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে স্বল্প পরিসরে বিভিন্ন আয়োজন করা হয়েছে। পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে বিকেল ৩টার পর থেকে প্রকৃতিপ্রেমীদের কিছুটা সমাগম লক্ষ্য করা যায়।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকালে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বৈশাখী র‍্যালি ও পান্তা ভাতের আয়োজন করা হয়। এতে উপজেলা পরিষদের কর্মকর্তা-কর্মচারী, থানা প্রশাসন, বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

55b6d52a-0dc7-4da0-84f1-ac22affa4942

অনুষ্ঠানে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের কমান্ডার খন্দকার আবুল কালাম, যুদ্ধকালীন ডেপুটি কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল আমিন এবং প্রিন্সিপাল এনামুল হক নতুন বছরে দেশ ও জাতির শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।

এছাড়া, উপজেলার আব্দুল মোতালেব হাইস্কুল ও চৌমুহনী উচ্চ বিদ্যালয়ে বৈশাখী উৎসব উদযাপন করতে দেখা যায়। বিকেলে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণ- হাতিয়া দ্বীপ সরকারি কলেজ মাঠে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও মেলা অনুষ্ঠিত হয়। একই সময়ে বুড়িরচর শহীদ আলী মেমোরিয়াল হাইস্কুল মাঠে একটি ফুটবল খেলার আয়োজন করা হয়।

অন্যদিকে, উপজেলার দ্বীপ উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে বৈশাখী মেলার আয়োজন করা হয়েছে। যেখানে প্রবেশ করতে জনপ্রতি ৩০ টাকা টিকিট নিতে হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গতকাল থেকে শুরু হওয়া এ মেলায় প্রতিদিন প্রায় চার থেকে পাঁচ হাজার দর্শনার্থীর সমাগম ঘটছে। উপজেলায় বিনোদনের তেমন কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা না থাকায় বিশেষ দিবসগুলোতে এই স্থানটিতেই মানুষের ভিড় বাড়ে।

91f6d50e-be95-4ea1-96e7-d299476244f5

আরও পড়ুন

চট্টগ্রামে বৈশাখের জয়গান, মঙ্গল শোভাযাত্রা

তবে টিকিটমূল্য নিয়ে দর্শনার্থীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। দর্শনার্থী শাকিল, জুয়েল, নাজনীন ও প্রিয়াঙ্কা বলেন, “সবসময় টিকিট নেওয়া হলেও অন্তত নববর্ষের দিনে কম নেওয়া যেত।”

এ বিষয়ে দ্বীপ উন্নয়ন সংস্থার ক্যাম্পাস ম্যানেজার তুহিন জানান, “প্রতিষ্ঠানের সৌন্দর্যবর্ধন ও রক্ষণাবেক্ষণে খরচ রয়েছে, তাই জনপ্রতি ৩০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে।”

এসব আয়োজনের বাইরে উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে হালখাতা, ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ মেলা কিংবা লোকজ সংস্কৃতির তেমন কোনো উপস্থিতি চোখে পড়েনি। একসময়কার ঐতিহ্যবাহী উৎসব এখন অনেকটাই স্মৃতির পাতায় সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে।

62764faf-8877-4831-87ad-6f242f692948

হাতিয়ার সংস্কৃতিপ্রেমীদের দাবি, গ্রামীণ ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির এই ক্রমাবনতি নতুন প্রজন্মকে শিকড়হীন করে তুলছে। তারা মোবাইল আসক্তিসহ বিভিন্ন নেতিবাচক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।

সংস্কৃতি সংশ্লিষ্টদের মতে, নববর্ষের প্রকৃত চেতনাকে ধরে রাখতে হলে গ্রামীণ ঐতিহ্য ও লোকজ সংস্কৃতিকে পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

প্রতিনিধি/এসএস