images

সারাদেশ

কুমিল্লায় যুবকের গলাকাটা লাশ উদ্ধার

জেলা প্রতিনিধি

১৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:২৮ পিএম

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় এরশাদ মিয়া (৩২) নামে এক যুবকের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করেছে বাঙ্গরা বাজার থানা পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকালে উপজেলার রামচন্দ্রপুর (উত্তর) ইউনিয়নের বি চাপিতলা গ্রামের একটি মাঠে লাশটি পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দিলে ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এরশাদ মিয়া দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন এবং চুরিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, চুরি করা মালামালের ভাগাভাগি অথবা মাদক সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে।

নিহতের বাবা আব্দুল হক জানান, তার ছেলে আগে গাড়ি চালাতেন। কিন্তু কয়েক বছর ধরে মাদকে আসক্ত হয়ে পড়েন এবং স্বাভাবিক জীবনযাপন থেকে বিচ্যুত হন। পরিবারের পক্ষ থেকে বহু চেষ্টা করেও তাকে সুপথে ফেরানো সম্ভব হয়নি।

স্থানীয়দের দাবি এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।

এলাকাবাসীর ধারণা, এটি কোনো সাধারণ ঘটনা নয় বরং পূর্বপরিকল্পিত নৃশংস হত্যাকাণ্ড। এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে তার চলাফেরা ও সংশ্লিষ্টতা নিয়ে নানা আলোচনা ছিল বলে জানা গেছে।

আরও পড়ুন

নেত্রকোনার হাওরে পাওয়া লাশের পরিচয় মিলেছে

স্থানীয় মোমেন মেম্বার বলেন, প্রায় এক বছর আগে তাকে ধরে পুলিশে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সে ভালো হয়নি। এভাবে তাকে হত্যা করা খুবই মর্মান্তিক। যারা এই নৃশংস কাজ করেছে, তাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন মুরাদনগর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ কে এম কামরুজ্জামান।

বাঙ্গরা বাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল কাদের জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে তদন্ত চলছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। দিনদুপুরে কিংবা গভীর রাতে যেকোনো সময় এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়ায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন স্থানীয়রা।

নেশাগ্রস্ত এক যুবকের জীবন কি শুধু ব্যক্তিগত ব্যর্থতার গল্প, নাকি এর পেছনে রয়েছে আরও গভীর সামাজিক সংকট? আর সেই অন্ধকারের শেষ পরিণতি কী এমন নির্মম মৃত্যু?

প্রতিনিধি/এসএস