বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
১৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৩৯ পিএম
বাঙালির আবহমান কালের অন্যতম উৎসব পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে ব্যতিক্রমী আয়োজন করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখা। বাংলা নববর্ষের ইতিহাস, গ্রামীণ চিরায়ত জীবনধারা ও মুসলিম ঐতিহ্য নিয়ে আয়োজন করা হয় এই ‘নববর্ষ প্রদর্শনী উৎসব’।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এই প্রদর্শনী উৎসবের উদ্বোধন করা হয়; যা চলবে রাত ৮টা পর্যন্ত।
উদ্বোধনের পর থেকেই প্রদর্শনীতে বিভিন্ন মতাদর্শের সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। উৎসবে বাংলা নববর্ষ গণনার ঐতিহাসিক পটভূমি, গ্রামীণ জীবনধারা এবং বাঙালি মুসলমানের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের বিভিন্ন উপাদান ও ঘটনাপ্রবাহ প্রদর্শিত হচ্ছে।
প্রদর্শনী দেখতে আসা এক দর্শনার্থী বলেন, ‘পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে ক্যাম্পাসে এসে শহীদ মিনারে ছাত্রশিবিরের এই আয়োজনটি দেখলাম। তাদের সাজানো বিষয়গুলো বেশ চমৎকার। এভাবে আমাদের বাঙালির সংস্কৃতি হাজার বছর টিকে থাকুক এটাই প্রত্যাশা।’

ইব্রাহিম নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘রাবি শিবির যে আয়োজনটি করেছে, তাতে বাঙালির পুরনো ঐতিহ্যের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। বিলুপ্তপ্রায় লাঙ্গল, হ্যাজাক লাইট, পালকি ও পুরনো আসবাবপত্র দেখে আগের দিনগুলোর কথা মনে পড়ে যায়। সুন্দর এই আয়োজনের জন্য আয়োজকদের ধন্যবাদ জানাই।’
আয়োজন প্রসঙ্গে রাবি ছাত্রশিবিরের প্রচার সম্পাদক মেহেদী সজীব বলেন, ‘ইসলামী ছাত্রশিবির রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার পক্ষ থেকে আমরা আজকের এই প্রদর্শনীর আয়োজন করেছি। এর মাধ্যমে নববর্ষের ইতিহাসের পাশাপাশি গ্রামীণ জীবনধারা ও মুসলিম ঐতিহ্যের বিভিন্ন উপাদান উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রদর্শনীতে পালকি, গরুর গাড়ি, ঢেঁকি, কৃষিকাজে ব্যবহৃত লাঙল ও জোয়ালসহ বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী উপকরণ রাখা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা উৎসবমুখর পরিবেশে এটি উপভোগ করছেন। আমরা বিশ্বাস করি, ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক উপাদানগুলো পরিহার করেও বাঙালির নিজস্ব সংস্কৃতিকে ইতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা সম্ভব; সেই লক্ষ্যেই আমাদের এই প্রচেষ্টা।’

নাম নিয়ে বিতর্কের বিষয়ে তিনি জানান, ‘শুরুতে আমরা ‘বৈশাখী আকবর’ নামটি নির্বাচন করেছিলাম। তবে এটি নিয়ে শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে কিছুটা বিতর্ক সৃষ্টি হওয়ায় আমাদের মূল উদ্দেশ্যকে প্রাধান্য দিয়ে নামটি পরিবর্তন করা হয়েছে। মূলত নতুন প্রজন্মের কাছে হারিয়ে যাওয়া সাংস্কৃতিক উপাদানগুলো তুলে ধরাই ছিল আমাদের মূল লক্ষ্য।’
প্রতিনিধি/একেবি