images

সারাদেশ

সরকারি চাল নিয়ে নাটকীয়তা: দিনভর উত্তেজনা শেষে রাতে গুদামে ফেরত

জেলা প্রতিনিধি

১৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:২৯ পিএম

শরীয়তপুরে সরকারি চাল পরিবহনকে কেন্দ্র করে দিনভর উত্তেজনা, সন্দেহ আর নাটকীয়তার পর গভীর রাতে তা পুনরায় গুদামে ফেরত নেওয়ার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, চালগুলো কালোবাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে সরানো হচ্ছিল। তবে প্রশাসনের রহস্যজনক ভূমিকার কারণে পুরো বিষয়টি নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার দুপুরে আংগারিয়া খাদ্যগুদাম থেকে একটি ট্রাকে করে সরকারি সিলযুক্ত প্রায় ৪০০ বস্তা চাল কোটাপাড়া অভিমুখে নেওয়া হচ্ছিল। ট্রাকটি পালং মডেল থানা সংলগ্ন সড়কে পৌঁছালে সন্দেহবশত স্থানীয় জনতা সেটি আটকে দেয়। এ সময় চালক ও হেলপার দাবি করেন, চালগুলো ওজনের জন্য প্রেমতলা এলাকায় নেওয়া হচ্ছে। তবে উপস্থিত লোকজন কাগজপত্র দেখতে চাইলে তারা দ্রুত সেখান থেকে সটকে পড়েন।

খবর পেয়ে গুদাম সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে এসে একটি চালান ফরম দেখিয়ে দাবি করেন, এগুলো ‘খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি’র আওতায় রুদ্রকর ইউনিয়নের ডিলার মানিক মাহমুদের নামে বরাদ্দকৃত চাল। তবে তাৎক্ষণিকভাবে উপস্থিত হয়ে সংশ্লিষ্ট ডিলার বোরহান উদ্দিন (মানিক মাহমুদ ডিলারশিপের দায়িত্বপ্রাপ্ত) জানান, এই চাল তার নয়। ডিলারের এমন বক্তব্যে চাল চুরির বিষয়টি আরও জোরালো হয়।

অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার পর স্থানীয়রা জেলা ও উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করলেও দীর্ঘ সময় কেউ ঘটনাস্থলে আসেননি। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর পুলিশ ট্রাকটি চালসহ থানায় নিয়ে যায়। সেখানেও একটি পক্ষ একই চালান ফরম দেখিয়ে চালগুলো ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। রাত সাড়ে ১০টার দিকে চৌরঙ্গী এলাকায় পুনরায় চালবোঝাই ট্রাকটি আটকে দেয় স্থানীয়রা।

পালং মডেল থানার উপ-পরিদর্শক আসাদুজ্জামান জানান, ডিলারের ম্যানেজার পরিচয়ে একজন ব্যক্তি কাগজপত্র নিয়ে আসেন। উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তার উপস্থিতিতে সেসব সঠিক বলে নিশ্চিত করা হলে চালবাহী ট্রাকটি ছেড়ে দেওয়া হয়।

রাত ১২টার দিকে সদর উপজেলা খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহনেওয়াজ আলম ট্রাকটি পুনরায় গুদামে নেওয়ার চেষ্টা করলে আবারও বাধার মুখে পড়েন। পরে গভীর রাতে কৌশলে চালগুলো গুদামে ফেরত নেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ইমরান আল নাজির বলেন, ‘দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত চালগুলো আটকে থাকলেও প্রশাসনের কেউ সময়মতো দায়িত্ব নেয়নি। রাতের আঁধারে কেন এবং কীভাবে চাল সরানো হলো, তা অত্যন্ত রহস্যজনক।’ অপর বাসিন্দা মহিউদ্দিন বেপারী এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন।

এ বিষয়ে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) হুমায়ুন কবির জানান, চালগুলো জব্দ করে বর্তমানে গুদামে রাখা হয়েছে এবং একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে পুরো ঘটনায় জেলা প্রশাসনের দৃশ্যমান পদক্ষেপ না থাকায় জনমনে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। সচেতন মহলের দাবি, সরকারি সম্পদ আত্মসাতের এই চেষ্টার পেছনে থাকা প্রকৃত অসাধু চক্রকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক।

প্রতিনিধি/একেবি