জেলা প্রতিনিধি
১৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৩০ পিএম
অর্ধশত হাইয়েস গাড়ি ও প্রাইভেটকারের বিরাট বহর নিয়ে শোটাউন দেওয়ার অভিযোগে নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মাসুদ রানা প্রামাণিককে তার সংগঠনের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের দফতর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গির আলম স্বাক্ষরিত চিঠিতে মাসুদ রানার অব্যাহতির কথা জানানো হয়।
ছাত্রদলের এই নেতা গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী। সে কারণেই বিরাট গাড়ি বহর নিয়ে তার এই প্রচারণা।
তবে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সংঘাতের জেরে বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের যে সংকট, তার মধ্যে এই বিরাট গাড়িবহর নিয়ে মাসুদ রানার শোডাউন দেওয়া ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। ফলে তাকে অব্যাহতি দিয়েছে ছাত্রদল।
এর আগে রোববার (১২ এপ্রিল) উপজেলার গুরুদাসপুর পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ থেকে মাসুদ রানার নেতৃত্বে গাড়িবহরের শোডাউন শুরু হয়। ৫০টি হাইয়েস ও প্রাইভেট কারে অংশ নেন প্রায় ৪০০ নেতাকর্মী। গাড়িবহরটি উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পৌর শহরের চাঁচকৈড় বাজারে গিয়ে শেষ হয়।
ওই ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। সরকারের জ্বালানি সাশ্রয় নীতির বিপরীতে এমন কর্মকাণ্ডে চারদিকে শুরু হয় ব্যাপক সমালোচনা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় মাইক্রোবাস সমিতির এক সদস্য জানান, গাড়িবহরে যে ৫০টি গাড়ি যুক্ত হয়েছিল, এর প্রতিটি মাইক্রোবাসের ভাড়া কমপক্ষে ৫ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে শোডাউনের জন্য অন্তত ২ লাখ ৫০ হাজার টাকায় গাড়ি ভাড়া করা হয়। এর সঙ্গে রয়েছে ৪০০ সমর্থকের আপ্যায়নের খরচও। ফলে ছাত্রদলের একজন উপজেলা পর্যায়ের নেতা হয়ে ব্যয়বহুল এই শোডাউন তিনি কীভাবে দিলেন, সেই অর্থের উৎস নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
এ বিষয়ে মাসুদ রানা গাড়িবহর নিয়ে শোডাউনের কথা নিশ্চিত করলেও ব্যয়ের উৎস নিয়ে কথা বলতে রাজি হননি। দলীয় পদ থেকে অব্যহতি নিয়েও কোনো মন্তব্য করেননি।
তবে ফেসবুক লাইভে তিনি বলেন, শোডাউনের গাড়িগুলো জ্বালানি তেলে চালিত নয়। বেশির ভাগই এলপিজি ও সিএনজি চালিত গাড়ি।
নাটোর জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মারুফ ইসলাম সৃজন বলেন, মাসুদ রানা গাড়িবহরের বিষয়টি কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের নজরে এসেছে। সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট কারণে তাকে আজ তাকে সংগঠন থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
এএইচ