images

সারাদেশ

গাজীপুরে নিরাপত্তার দাবিতে হেযবুত তওহীদের সংবাদ সম্মেলন

জেলা প্রতিনিধি

১২ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:১৮ পিএম

হেযবুত তওহীদের সদস্যদের জান-মালের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে গাজীপুরে সংবাদ সম্মেলন করেছে সংগঠনটি।

রোববার (১২ এপ্রিল) বিকেলে বিকেলে গাজীপুর প্রেসক্লাবে কাপাসিয়া উপজেলা হেযবুত তওহীদের সদস্যদের বিরুদ্ধে একটি উগ্রবাদী গোষ্ঠী কর্তৃক মিথ্যা গুজব, অপপ্রচার, ষড়যন্ত্র ও মব সৃষ্টির পাঁয়তারা বন্ধে জরুরি আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের দাবিতে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে পাঠ করেন হেযবুত তওহীদের কেন্দ্রীয় ছাত্র কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক মুখলেছুর রহমান সুমন। সম্মেলনে উগ্রবাদী গোষ্ঠীর সীমাহীন মিথ্যাচার ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রশাসনকে তৎপর থাকার আহ্বান জানান হেযবুত তওহীদের গাজীপুর জেলা সভাপতি আবু রায়হান। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন হেযবুত তওহীদের কাপাসিয়া উপজেলা সভাপতি মো. শাহজাহান ও সদস্য মো. রায়হান খানসহ স্থানীয় নেতাকর্মীবৃন্দ।

লিখিত বক্তব্যে মুখলেছুর রহমান সুমন জানান, কাপাসিয়া উপজেলার খোদাদিয়া গ্রামে হেযবুত তওহীদের অনুসারী বেশ কয়েকটি পরিবার দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছে। তবে সম্প্রতি কিছু ধর্মীয় বক্তা ওই এলাকায় ওয়াজ মাহফিলের নামে সংগঠনের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা গুজব, বিদ্বেষ ও উসকানিমূলক বক্তব্য ছড়িয়ে যাচ্ছেন। আমরা যা করি না, যা বলি না, যা আমাদের আকিদা নয় সেসব আজগুবি মিথ্যা কথা আমাদের নামে চালিয়ে দিচ্ছে। বেনামি হ্যান্ডবিলে এসব মিথ্যা তথ্য ছাপিয়ে বিলি করছে; সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষকে উসকে দিচ্ছে, উত্তেজিত করছে।

আরও পড়ুন

 

মুখলেছুর রহমান সুমন বলেন, এই অপপ্রচারকারী ও উস্কানিদাতাদের বিরুদ্ধে আমরা থানায় অভিযোগ করি এবং প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরকে অবগত করি। উস্কানিদাতারা তাদের অপপ্রচার অব্যাহত রাখলে আমরা গাজীপুর জেলা জজ আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছি। মামলা নাম্বার সি.আর মো: নং- ২২৩/২০২৬ (কাপাসিয়া)। মামলায় কথিত ইসলামী বক্তা মাহমুদুল হাসান গুনবীকে প্রধান আসামি করা হয়, যিনি মাহফিলে দীর্ঘ এক ঘণ্টা হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা বানোয়াট বক্তব্য রেখে মুসল্লিদেরকে উত্তেজিত করে তোলেন এবং এলাকায় অস্থিরতা সৃষ্টি করেন। মামলা দায়েরের পর উস্কানিদাতারা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং তাদের অপতৎপরতা আরো বাড়িয়ে দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় তারা আগামীকাল ১৩ এপ্রিল কাপাসিয়ার তাজউদ্দিন চত্বরে একটি বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দিয়েছে। আমাদের আশঙ্কা, এই সমাবেশের মাধ্যমে উগ্র কোনো গোষ্ঠী সন্ত্রাস সৃষ্টি করে আমাদের বাড়িঘরে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করতে পারে। অতীতে দেশের বিভিন্ন স্থানে এ ধরনের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের ফলে হেযবুত তওহীদের সদস্যদের ওপর বর্বরোচিত হামলা ও হত্যাকাণ্ডের নজির রয়েছে। আমরা কোনোভাবেই চাই না কাপাসিয়ায় এমন কোনো পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঘটুক।

তিনি আরও বলেন, হেযবুত তওহীদ একটি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক ও আইনমান্যকারী আন্দোলন। গত ৩০ বছর ধরে আমরা ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা মানুষের সামনে তুলে ধরে আসছি। ধর্মের নামে উগ্রতার বিরুদ্ধে শান্তি-সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে কাজ করছি।

সংবাদ সম্মেলন থেকে প্রশাসনের কাছে তিনটি সুনির্দিষ্ট দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলো সমাবেশস্থলে পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা, পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজনে ১৪৪ ধারা জারি করা এবং উসকানিদাতাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া। বক্তারা বলেন, এলাকায় কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে তার সম্পূর্ণ দায় সংশ্লিষ্ট উসকানিদাতা ও সমাবেশ আহ্বানকারীদের নিতে হবে।

সংবাদ সম্মেলন শেষে তারা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে জেলা প্রশাসন ও পুলিশের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তারা সাধারণ মানুষের জান-মাল রক্ষায় এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখতে সরকারের ঊর্ধ্বতন মহলের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

প্রতিনিধি/এসএস