জেলা প্রতিনিধি
১১ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৪১ পিএম
পঞ্চগড়ে মাত্র দুই বছরে পবিত্র কোরআনের ৩০ পারা মুখস্থ করে হাফেজা হয়েছেন ফাতেমা আক্তার (১৪) নামের নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী। এই গৌরবময় অর্জনে তাকে সম্মান জানাতে আয়োজন করা হয় সংবর্ধনা ও দোয়া অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠান শেষে মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেল বহরের মাধ্যমে তাকে রাজকীয়ভাবে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়।
শনিবার (১১ মার্চ) দুপুরে পঞ্চগড় সদর উপজেলার চাকলাহাট এলাকার হাবিবা জান্নাত মদিনাতুল উলুম বালিকা মাদরাসায় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। হাফেজা ফাতেমা আক্তার ওই উপজেলার চাকলাহাট ইউনিয়নের বকশিপাড়া গ্রামের আব্দুল করিমের মেয়ে।
মাদরাসা সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের মার্চ মাসে ফাতেমা এই মাদরাসায় ভর্তি হয়। অত্যন্ত মেধা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে মাত্র দুই বছরের মধ্যেই সে কোরআনের হিফজ সম্পন্ন করে। তার এই সাফল্যে শিক্ষক ও অভিভাবকরা অত্যন্ত আনন্দিত। অনুষ্ঠানে ফাতেমাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয় এবং উপহার সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তার বাবা ও মাকেও সংবর্ধিত করা হয়। সংবর্ধনা শেষে একটি সুসজ্জিত মাইক্রোবাসে করে মোটরসাইকেল বহরসহ তাকে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়।

এদিকে ফাতেমাকে বরণ করে নিতে গ্রামবাসীও বিশেষ প্রস্তুতি গ্রহণ করেন। বাড়ির সামনের রাস্তায় গেট তৈরি করা হয় এবং গ্রামের নারীরা তাকে ফুলের মালা দিয়ে বরণ করে নেন। বাড়িতে পৌঁছানোর পর সেখানে মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়। ফাতেমা আক্তার জানায়, শিক্ষকদের দক্ষ পরিচালনা ও নিবিড় যত্নের কারণেই সে দ্রুত হাফেজা হতে পেরেছে। ভবিষ্যতে সে একজন বড় আলেমা হতে চায়।
ফাতেমার বাবা আব্দুল করিম মেয়ের সাফল্যে সন্তোষ প্রকাশ করে সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন। মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক হাফেজ মো. আব্দুস সালাম জানান, ২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এই মাদরাসায় বর্তমানে ৬৫ জন শিক্ষার্থী রয়েছে এবং ফাতেমার মতো আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী দ্রুতই হিফজ সম্পন্ন করবে।

চাকলাহাট কেপি আলিম মাদরাসার অধ্যক্ষ এ আর এম শহিদুল ইসলাম হাফেজা ফাতেমার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন এবং নারীদের ইসলামিক শিক্ষায় শিক্ষিত করার জন্য মাদরাসা কর্তৃপক্ষের প্রশংসা করেন।
প্রতিনিধি/একেবি