images

সারাদেশ

বাগেরহাটে কুমিরের কুকুর শিকার, নিছক দুর্ঘটনা নাকি পরিকল্পিত?

জেলা প্রতিনিধি

১১ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৫০ পিএম

বাগেরহাটের ঐতিহাসিক খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজার সংলগ্ন ঠাকুর দিঘিতে একটি কুমির কর্তৃক কুকুর শিকারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে। 

গত বুধবার (৮ এপ্রিল) বিকেলে মাজারের প্রধান ঘাটে ‘ধলা পাহাড়’ নামে পরিচিত কুমিরটি একটি কুকুরকে ধরে পানির নিচে নিয়ে যাওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে প্রশ্ন ওঠে এটি কি কেবলই প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়ম, নাকি এর পেছনে রয়েছে মানুষের কোনো হাত? 

ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর নেটিজেনদের একাংশ দাবি করছেন, কুকুরটিকে পরিকল্পিতভাবে হাত-পা বেঁধে কুমিরের সামনে ফেলে দেওয়া হয়েছে, আবার কেউ কেউ মাজারের খাদেমদের দিকেও অভিযোগের আঙুল তুলেছেন। তবে ভিডিও বিশ্লেষণ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ এক ভিন্নধর্মী চিত্র তুলে ধরছে। 

ঘটনার সময় ঘাটে উপস্থিত থাকা নিরাপত্তা কর্মী ও স্থানীয় দোকানদারদের ভাষ্যমতে, কুকুরটি আগে থেকেই অস্বাভাবিক আচরণ করছিল এবং স্থানীয় কয়েকজনকে আক্রমণ করার পর হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে নিজেই পানির দিকে নেমেছিল। 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কুকুরটি তিন বছরের এক শিশুসহ কয়েকজনকে কামড়ে দেয় এবং পাগলের মতো এদিক-ওদিক ছুটতে থাকে। একপর্যায়ে সেটি ঘাটের সিঁড়ি দিয়ে পানিতে নামলে ডিম পাড়ার কারণে হিংস্র হয়ে থাকা মা কুমিরটি সেটিকে নিজের শিকার বানিয়ে নেয়। 

স্থানীয় যুবক মেহেদী হাসানের মতে, কুমিরটি সম্প্রতি ডিম পেড়েছে এবং এই সময়ে এরা অত্যন্ত আক্রমণাত্মক থাকে, ফলে সামনে যে কাউকেই তারা শত্রু হিসেবে গণ্য করে। ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভ্রান্তিকর তথ্য ও ‘ভাইরাল’ করার নেশায় ভুল ব্যাখ্যা দেওয়ার অভিযোগে মাজার কর্তৃপক্ষ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে। মাজারের প্রধান খাদেম ফকির তারিকুল ইসলাম স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, কোনো প্রাণীকেই পরিকল্পিতভাবে কুমিরের সামনে দেওয়া হয় না এবং কুকুরটিকে বেঁধে পানিতে ফেলার কোনো প্রমাণ মেলেনি। 

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ঘটনার রহস্য উদঘাটনে বাগেরহাট জেলা প্রশাসন তিন সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে, যার প্রধান করা হয়েছে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আতিয়া খাতুনকে। 

এদিকে জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ শনিবার বিকেলে কুকুরটির ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করেছে এবং এর মাথা পরীক্ষার জন্য ঢাকার কেন্দ্রীয় ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছে। এটি জলাতঙ্কে আক্রান্ত ছিল কি না, তা নিশ্চিত হওয়া গেলে ঘটনার প্রকৃত কারণ আরও স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। 

জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন জানিয়েছেন, তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং কুসংস্কারবশত কেউ যেন কোনো জীবন্ত প্রাণী দিঘিতে না ফেলে, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। বর্তমানে এই ঐতিহাসিক দিঘিতে ২০০৫ সালে ভারত থেকে আনা কুমিরগুলোর মধ্যে কেবল একটিই জীবিত রয়েছে, যার চারপাশ ঘিরে এখন রহস্য আর প্রশাসনিক তদন্তের জাল বিস্তার করছে।

প্রতিনিধি/একেবি