images

সারাদেশ

গাজীপুরে ‘বাইকোনুর’ আঙুর চাষে প্রকৌশলীর অভাবনীয় সাফল্য

১১ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:২১ পিএম

থোকায় থোকায় আঙুরের সবুজ বিপ্লব আর বিপুল আয়ের হাতছানিতে উচ্ছ্বসিত কৃষি উদ্যোক্তা রুকুনুজ্জামান সিকদার। পেশায় প্রকৌশলী এই উদ্যোক্তা তার বাগানে রোপণ করেছেন ইউক্রেনের বিখ্যাত ‘বাইকোনুর’ জাতের আঙুর। সুমিষ্ট এই জাতের আঙুর চাষ করে এরই মধ্যে তিনি সাফল্যের মুখ দেখেছেন। তার এই অভাবনীয় সাফল্যের খবর ছড়িয়ে পড়লে প্রতিদিন উৎসুক মানুষ ভিড় জমাচ্ছেন বাগানটি দেখতে। রুকুনুজ্জামান সিকদারের দাবি, প্রথমবার ফলনেই সব খরচ বাদ দিয়ে তিনি লাভের মুখ দেখছেন।

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের বিপ্রবর্থা এলাকায় এক সময় কেবল ধান চাষ হতো, তবে অনেক জমিও পড়ে থাকত পতিত। করোনা মহামারির পর এমন কিছু পতিত জমি লিজ নিয়ে প্রকৌশলী রুকুনুজ্জামান তার সমন্বিত কৃষি খামার গড়ে তোলেন। ৫ একর জমিতে মাল্টা, ড্রাগন ও প্যাশন ফ্রুট চাষ করে আগেই সাফল্য পেয়েছিলেন তিনি। এবার এক বিঘা জমিতে বাইকোনুর জাতের আঙুর চাষ করে রীতিমতো তাক লাগিয়ে দিয়েছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ১৮ মাস বয়সী দুই শতাধিক গাছে থোকায় থোকায় সবুজ আঙুর ঝুলছে। প্রতিটি গাছেই প্রচুর ফলন এসেছে। উদ্যোক্তা রুকুনুজ্জামান জানান, এক মাস পরেই ফলগুলো পাকলে আকর্ষণীয় বেগুনি রঙ ধারণ করবে। খেতে অত্যন্ত সুমিষ্ট এই আঙুর স্বাদেও অনন্য।

তিনি বলেন, ‘করোনা মহামারির পর পেশাগত কাজের পাশাপাশি মাল্টা ও ড্রাগন চাষ শুরু করি। এবার আঙুর চাষে হাত দিয়েছি। এক বিঘা জমি প্রস্তুত ও চারা রোপণসহ আনুষঙ্গিক পরিচর্যায় প্রায় চার লাখ টাকা খরচ হয়েছে। তবে প্রথমবার ফল বিক্রি করেই সেই খরচ উঠে এসেছে। এখন গাছ থেকে ধারাবাহিকভাবে শুধু লাভের ফলন পাওয়া যাবে।’

বাগানে কর্মরত শ্রমিকরা জানান, এই জাতের আঙুর গাছে ফেব্রুয়ারির দিকে ফুল আসে। চার মাসেই ফল পরিপক্ক হয়ে খাওয়ার উপযোগী হয়। বাংলাদেশে চাষ করা অন্যান্য ফসলের মতোই এর সার ও কীটনাশক ব্যবস্থাপনা করতে হয়। মালচিং পদ্ধতিতে চাষ করা এই বাগানে গত ১৮ মাসে ১০ বার জৈব ও রাসায়নিক সার প্রয়োগ করা হয়েছে। এছাড়া নিয়মিত সেচ দিতে হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাগানটি ভাইরাল হওয়ার পর প্রতিদিন শত শত দর্শনার্থী এখানে আসছেন।

বাগানের ব্যবস্থাপক শহীদুল ইসলাম বাবু জানান, এই গাছের গোড়ার আগাছা পরিষ্কার রাখা ও নিয়মিত পানির জোগান নিশ্চিত করতে হয়। তার অধীনে বেশ কয়েকজন কর্মচারী বাগানটি দেখভাল করেন।

বাগান দেখতে আসা রাসেল হোসেন বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানতে পেরে এখানে এসেছি। গাজীপুরের মাটিতেও যে এমন উন্নত জাতের আঙুর চাষ সম্ভব, তা স্বচক্ষে না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন। ফলন দেখে আমি মুগ্ধ। এখান থেকে চারা নিয়ে আমিও রোপণ করার চিন্তা করছি।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের কর্মকর্তারা বলছেন, সঠিক পরিচর্যা করলে দেশে উন্নত জাতের আঙুর উৎপাদন সম্ভব। গাজীপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘প্রকৌশলী রুকুনুজ্জামান একজন আদর্শ কৃষক। তার চাষ করা ইউক্রেনের এই বাইকোনুর জাতটি মূলত একটি হাইব্রিড জাত। আমরা দেখেছি ফলন বেশ ভালো হয়েছে। এটি উচ্চমূল্যের একটি লাভজনক ফল। সঠিক পরিচর্যা করলে এর মিষ্টতা বজায় থাকে।’

Gazipur-2

রুকুনুজ্জামান সিকদার জানান, নাটোর, চুয়াডাঙ্গা ও জামালপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে তিনি এই জাতের আঙুর সংগ্রহ করেছেন। এখন তার পরিকল্পনা এই বাগানটিকে আরও বড় পরিসরে বিস্তৃত করা।

প্রতিনিধি/একেবি