images

সারাদেশ

লণ্ডভণ্ড কক্সবাজারের লবণ মাঠ, বিপাকে প্রান্তিক চাষি

জেলা প্রতিনিধি

০৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:১২ পিএম

কালবৈশাখী ঝড়ো হাওয়া ও টানা ভারী বৃষ্টিতে কক্সবাজারের বিস্তীর্ণ লবণ মাঠ লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। উৎপাদিত ও উৎপাদনাধীন বিপুল পরিমাণ লবণ পানিতে মিশে যাওয়ায় প্রান্তিক চাষিরা চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন। বাজারে লবণের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার আক্ষেপের মধ্যেই এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ চাষিদের জন্য যেন ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গত মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ও বুধবার (৮ এপ্রিল) রাতে বয়ে যাওয়া কালবৈশাখী ঝড় ও টানা বৃষ্টিতে কক্সবাজার সদর, পেকুয়া, মহেশখালী ও কুতুবদিয়া উপজেলার বিভিন্ন লবণ মাঠে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। রাতভর বৃষ্টিতে জমাট বাঁধা ‘সাদা সোনা’ খ্যাত লবণ গলে পানিতে মিশে যায়। একই সঙ্গে উৎপাদনের জন্য প্রস্তুত করা লবণের ‘বেড’ বা কাই নষ্ট হয়ে যাওয়ায় পুনরায় উৎপাদন শুরু করতে অন্তত ৫ থেকে ৭ দিন সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে কক্সবাজার সদর উপজেলার চৌফলদণ্ডী ও ঈদগাঁও, পেকুয়া উপজেলার মগনামা ও রাজাখালী, মহেশখালী উপজেলার কুতুবজোম ও বড় মহেশখালী এবং কুতুবদিয়ার বিস্তীর্ণ লবণ মাঠ।

মহেশখালীর ধলঘাটার লবণ চাষি আহমেদ হোসেন বলেন, ‘মৌসুমের শেষ সময়ে একটু বেশি লাভের আশায় দিনরাত পরিশ্রম করছিলাম। কিন্তু মাত্র এক ঘণ্টার বৃষ্টিতে কয়েকশ মণ লবণ পানিতে মিশে গেল। এখন আবার নতুন করে মাঠ তৈরি করতে হবে, যা অত্যন্ত ব্যয়বহুল।’ 

কুতুবজোম এলাকার চাষি ফরিদ আলম বলেন, ‘বাজারে লবণের দাম এমনিতেই কম, তার ওপর এই ঝড়ে সব শেষ হয়ে গেল। ঋণ করে মাঠ নিয়েছি, এখন কীভাবে তা শোধ করব বুঝতে পারছি না।” একই ধরনের ক্ষতির কথা জানিয়েছেন কুতুবদিয়া এলাকার চাষি মুজিবুর রহমান। তিনি বলেন, ‘লবণের দাম কম থাকায় আগে থেকেই লোকসানে ছিলাম। এই ঝড়ে সব শেষ হয়ে গেছে। ঋণের বোঝা কীভাবে সামলাব, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।’

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ মৌসুমে দেশে প্রায় ২৭ লাখ ১৫ হাজার মেট্রিক টন লবণের চাহিদা রয়েছে। এই চাহিদা পূরণে কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের বাঁশখালী এলাকায় প্রায় ৬৯ হাজার একর জমিতে ৪১ হাজারের বেশি চাষি লবণ উৎপাদনে নিয়োজিত রয়েছেন। শুধু মহেশখালীতেই চলতি মৌসুমে প্রায় ১৭ হাজার একর জমিতে লবণ চাষ হচ্ছে। অনুকূল আবহাওয়া থাকলে এখান থেকে গড়ে আড়াই থেকে সাড়ে তিন লাখ মেট্রিক টন লবণ উৎপাদিত হয়, যা দেশের মোট উৎপাদনের প্রায় ২৫ শতাংশ।

বিসিক কক্সবাজার লবণ শিল্প উন্নয়ন কার্যালয়ের উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. জাফর ইকবাল ভূঁইয়া বলেন, সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে কয়েক হাজার একর লবণ মাঠ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। লোনা পানি মিষ্টি হয়ে যাওয়ায় পুনরায় উৎপাদন শুরু করতে চাষিদের অতিরিক্ত শ্রম ও জ্বালানি ব্যয় করতে হবে। চাষিরা জানান, প্রতি মণ লবণের উৎপাদন খরচ ২৫০ থেকে ২৮০ টাকা হলেও বাজারে ন্যায্যমূল্য মিলছে না। এর মধ্যে এই দুর্যোগ তাদের ক্ষতির বোঝা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ঋণ করে মাঠ ইজারা নেওয়া অনেক চাষির জন্য এখন ঘুরে দাঁড়ানোই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

প্রতিনিধি/একেবি