জেলা প্রতিনিধি
০৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:০৭ পিএম
মেহেরপুরের গাংনী বাজারে হিজড়া সম্প্রদায়ের সদস্যদের মধ্যে আধিপত্য ও নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ঝুমকা (২৬) ও নদী (২৬) নামে দুই হিজড়া সদস্য আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুর ২টার দিকে গাংনী বাজারের মাছের আড়ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয়রা গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
আহত ঝুমকা চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার আসমানখালি গ্রামের আব্দুস সাত্তারের সন্তান। অপরদিকে আহত নদী মেহেরপুর সদর উপজেলার কুলবাড়িয়া গ্রামের মুকুল হোসেনের সন্তান।
আরও পড়ুন: দিনে দিনে ভয়ংকর হয়ে উঠছে হিজড়ারা
স্থানীয় সূত্র জানায়, ঝুমকা নাম পরিবর্তন করে ‘চাঁদনী’ পরিচয়ে গাংনী উপজেলার জুগিন্দা গ্রামের দোপপাড়া এলাকার এক যুবককে বিয়ে করে গোপনে সংসার করছেন। একই সঙ্গে তিনি হিজড়া পরিচয়ে বিভিন্ন গ্রাম থেকে টাকা তোলার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় গাংনী পৌর এলাকার হিজড়া সম্প্রদায়ের নিয়ন্ত্রণকর্তা (গুরুমা) নুপুর খাতুন (৫০) গাংনী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তিনি কুষ্টিয়া সদর উপজেলার খাজানগর এলাকার গাজী আব্দুল্লাহর মেয়ে।
অভিযোগের প্রেক্ষিতে কয়েক দিন আগে থানায় উভয় পক্ষকে নিয়ে বৈঠক করলেও কোনো সমাধান হয়নি। পরে বুধবার (৮ এপ্রিল) পুনরায় বৈঠকের দিন ধার্য করা হলেও ঝুমকা সেখানে উপস্থিত হননি।
নুপুর খাতুন জানান, ‘আমাদের গোত্রের নিয়ম অনুযায়ী কেউ বিয়ে করে সংসার করলে সে আর হিজড়া সম্প্রদায়ের সদস্য হিসেবে থাকতে পারে না। কিন্তু ঝুমকা বিয়ে করে স্বামী নিয়ে সংসার করেও হিজড়া পরিচয়ে টাকা তুলছেন। বিষয়টি নিষেধ করলেও তিনি মানছেন না।’
আরও পড়ুন: কলেজছাত্রকে আটকে নকল হিজড়ার কাণ্ড!
তিনি আরও জানান, ঝুমকার সমর্থনে নদী নামে আরেকজন হিজড়া রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে অন্যদের সঙ্গে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে ঝুমকাকে মারধর করা হয়। তাকে রক্ষা করতে গিয়ে নদীকেও মারধরের ঘটনা ঘটে বলে তিনি শুনেছেন। তবে কারা বা কী উদ্দেশ্যে হামলা চালিয়েছে, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন।
গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার দাস বলেন, ‘হিজড়া সদস্যদের মারধরের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
প্রতিনিধি/এমআই