জেলা প্রতিনিধি
০৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৫৩ পিএম
নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলায় স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের নির্যাতনে সাহিদা আক্তার (২১) নামে এক গৃহবধূর বিষপানে আত্মহত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় ওই গৃহবধূর স্বামী মোনাইদ হোসেনকে (২৭) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এর আগে গতকাল বুধবার বিকেল তিনটার দিকে পার্শ্ববর্তী খালিয়াজুরী উপজেলার বোয়ালী গ্রাম থেকে তাকে আটক করে এলাকাবাসী পুলিশে সোপর্দ করে। মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুল ইসলাম হারুন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেফতার হওয়া মোনাইদ হোসেন উপজেলার বাখরপুর গ্রামের মো. শফিকুল ইসলামের ছেলে। নিহত শাহিদা আক্তার পার্শ্ববর্তী মধুপুর গ্রামের শহিদ মিয়ার মেয়ে। শাহিদা মোনাইদের দ্বিতীয় স্ত্রী। প্রথম স্ত্রীর সংসারে মোনাইদের চার বছর বয়সী একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।
মামলার অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বছরখানেক আগে এক প্রবাসীর সাথে সাহিদার বিয়ে হয়। স্বামী বিদেশে থাকায় সাহিদা বাবার বাড়িতেই থাকতেন। গত বছরের আগস্টে কৌশলে বাড়িতে ঢুকে সাহিদাকে ধর্ষণ করেন মোনাইদ হোসেন। এ ঘটনায় সাহিদা আদালতে মামলাও করেছিলেন। সেই মামলা থেকে বাঁচতে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সাহিদাকে বিয়ে করেন মোনাইদ। পরিস্থিতির শিকার হয়ে সাহিদা তার আগের স্বামীকে ডিভোর্স দিতে বাধ্য হন।
তবে বিয়ের পর থেকেই মোনাইদ ও তার পরিবারের সদস্যরা সাহিদার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করেন। একপর্যায়ে যৌতুক হিসেবে বাবার বাড়ি থেকে ছয় লাখ টাকা এনে দিতে চাপ দেন মোনাইদ। দরিদ্র বাবার পক্ষে এত টাকা দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানালে নির্যাতনের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। অতিষ্ঠ হয়ে গত ২৯ মার্চ দুপুরে বাবার বাড়িতে বিষপান করেন সাহিদা।
স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে ওই রাতেই তার মৃত্যু হয়। গত ১ এপ্রিল নিহতের বাবা শহীদ মিয়া বাদী হয়ে মোনাইদ ও তার শ্বশুরসহ পরিবারের ৭ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনের বিরুদ্ধে ‘আত্মহত্যার প্ররোচনার’ মামলা করেন।
ভুক্তভোগীর বাবা শহিদ মিয়া বলেন, ‘‘মোনাইদ মাদকাসক্ত ও জুয়াড়ি। ধর্ষণের পর চাপে ফেলে সে আমার মেয়েকে বিয়ে করেছিল। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের জন্য মারধর করত। টাকা দিতে না পারায় তারা সাহিদাকে বলত ‘কত মানুষ আত্মহত্যা করে, তুই মরতে পারস না?’ তাদের অপমান ও নির্যাতন সইতে না পেরেই আমার মেয়ে বিষ খেয়ে মারা গেছে। আমি এর বিচার চাই।’’
মোহনগঞ্জ থানার ওসি মো. হাফিজুল ইসলাম হারুন জানান, মামলার প্রধান আসামি মোনাইদকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
প্রতিনিধি/একেবি