images

সারাদেশ

বিএনপি নেতার মৃত্যুর ৭ বছর পর মামলা

জেলা প্রতিনিধি

০৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৫৮ এএম

কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম. এ. শামিম আরজুর মৃত্যুর ঘটনায় সাত বছর পর আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহতের ছেলে এস. এম. ফুয়াদ শামীম বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

বুধবার (৮ এপ্রিল) কুষ্টিয়ার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও আমলী আদালতে নিহতের ছেলে এ  দরখাস্ত দাখিল করেন। আদালত বাদীর আরজি গ্রহণ করে বিষয়টি এজাহার (এফআইআর) হিসেবে গণ্য করার জন্য কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন।

মামলায় কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, সাবেক জেলা প্রশাসক আসলাম হোসেন, সাবেক পুলিশ সুপার তানভির আরাফাতসহ ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলায় বাদী উল্লেখ করেন, ২০১৯ সালের ২৬শে মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসে ডিসি কোর্টের স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে গেলে পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা জেলা বিএনপির নেতা-কর্মীদের ঘিরে ধরে। তৎকালীন এসপি তানভীর আরাফাতের নির্দেশে পুলিশ সদস্যরা বাদীর পিতা এম.এ শামীম আরজুর ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। পরে তাকেসহ জেলা বিএনপির তৎকালীন সভাপতি সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী ও সাধারণ সম্পাদক সোহরাব উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে থানায় নেওয়া হয়।

বাদী আরও উল্লেখ করেন, থানা হেফাজতে থাকাকালীন আসামিদের ইন্ধনে তার পিতার ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়। এতে তার বাবা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়। ১১ই এপ্রিল জেলখানায় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পরিবারের পক্ষ থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তৎকালীন ডিসি, জেল সুপার ও কারা হাসপাতালের ডাক্তারের কাছে বারবার আবেদন করা হলেও তারা কোনো ব্যবস্থা নেননি, বরং দুর্ব্যবহার করে তাড়িয়ে দেন।

বাদী ফুয়াদ উল্লেখ করেন, তৎকালীন এমপি মাহবুবুল আলম হানিফ ও আতাউর রহমান আতার নির্দেশে তার বাবাকে হাসপাতালের বারান্দায় সাড়ে তিন ঘণ্টা ফেলে রাখা হয় এবং চিকিৎসা না দিয়ে পুনরায় কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। পরে ওই দিন দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে বিনা চিকিৎসায় তিনি জেলহাজতে মৃত্যুবরণ করেন।

মামলায়, কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে সাবেক আরএমও ডা. তাপস কুমার সরকার, কুষ্টিয়া মডেল থানার সাবেক ওসি নাসির উদ্দিন, সাবেক জেল সুপার জাকির হোসেনকে আসামি করা হয়েছে।

বাদী ফুয়াদ জানান, তৎকালীন সময়ে আসামিরা প্রভাবশালী হওয়ায় এবং পুলিশি হুমকির কারণে তারা মামলা করার সাহস পাননি। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পর ন্যায়বিচারের আশায় তিনি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন।

মামলা প্রসঙ্গে বাদীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম বলেন, বুধবার সকাল ১১ টায় কুষ্টিয়ার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও আমলী আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয়। বিজ্ঞ আদালত মামলাটি গ্রহণ করেন এবং আশাবাদী যে এই মামলার আসামিদের সঠিক বিচার হবে।

প্রতিনিধি/এজে