জেলা প্রতিনিধি
০৮ এপ্রিল ২০২৬, ১১:২০ এএম
বগুড়া-৬ (সদর) আসনের উপনির্বাচনে ১৫০টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৫৩টিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে প্রশাসন। এর মধ্যে পাঁচটি কেন্দ্রকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনা করে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নির্বাচন সামনে রেখে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাঠে নামানো হয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। আগামী ৯ এপ্রিল এই আসনে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
জেলা পুলিশের বিশেষ শাখা (ডিএসবি) সূত্রে জানা গেছে, মোট কেন্দ্রের মধ্যে পাঁচটি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ, ৪৮টি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ৯৭টি সাধারণ কেন্দ্র রয়েছে।
অধিক ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলো হলো- বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজের পুরাতন (উচ্চ মাধ্যমিক) ভবনের পুরুষ ও মহিলা কেন্দ্র, ভাণ্ডারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র এবং বগুড়া করোনেশন ইন্সটিটিউশন স্কুল অ্যান্ড কলেজের পুরুষ ও মহিলা কেন্দ্র।
এসব অধিক ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে প্রতি কেন্দ্রে ছয়জন করে পুলিশ সদস্য এবং ১৫ থেকে ১৬ জন আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে পাঁচজন করে পুলিশ এবং ১২ থেকে ১৫ জন আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এ ছাড়া সেনাবাহিনী, বিজিবি ও র্যাব সদস্যরা স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে মাঠে থাকবেন। দায়িত্ব পালন করবেন নির্বাহী ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটরাও।
এদিকে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আট প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। গত ২ এপ্রিল থেকে তারা দায়িত্ব পালন শুরু করেছে এবং আগামী ১১ এপ্রিল পর্যন্ত নির্বাচনি এলাকায় অবস্থান করবে। বগুড়া সদর উপজেলার তিনটি বেইজ ক্যাম্পে অবস্থান নিয়ে বিজিবি সদস্যরা মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করছেন। শুক্রবার থেকে তারা সক্রিয়ভাবে টহল ও নিরাপত্তা কার্যক্রম শুরু করেছেন।
এছাড়াও ৮ এপ্রিল দিবাগত রাত ১২টা থেকে ৯ এপ্রিল দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত ট্রাক, মাইক্রো, ব্যক্তিগত গাড়ি, ট্রাক চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে জেলা প্রশাসন। এর পাশাপাশি ৭ এপ্রিল রাত ১২টা থেকে ১০ এপ্রিল রাত ১২টা পর্যন্ত মোটরসাইকেল চলাচলেও নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে।
রিটার্নিং কর্মকর্তা ফজলুল করিম বলেন, নির্বাচনকালীন সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। তারা ২ থেকে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে কাজ করবেন।
তিনি আরও বলেন, ভোটগ্রহণের আগে, ভোটের দিন এবং পরবর্তী সময় এই তিন পর্যায়েই বিজিবি সদস্যরা টহলসহ নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন। নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগসহ অন্যান্য নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে।
উপনির্বাচনে তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন- বিএনপির রেজাউল করিম বাদশা (ধানের শীষ), জামায়াতে ইসলামীর আবিদুর রহমান সোহেল (দাঁড়িপাল্লা) এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির আল আমিন তালুকদার (ফুলকপি)।
জেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৫৪ হাজার ৪৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ২২ হাজার ৭৯৯ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৩১ হাজার ২৩৪ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ১০ জন।
প্রতিনিধি/এজে