জেলা প্রতিনিধি
০৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৪২ পিএম
শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে পরিচালিত একটি সিসা উৎপাদনকারী কারখানা অবশেষে গুঁড়িয়ে দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার রামভদ্রপুর ইউনিয়নের মহিষকান্দি এলাকায় কয়েক ঘণ্টাব্যাপী অভিযান চালিয়ে কারখানাটি ধ্বংস করা হয়।
অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক কে.এম রাফসান রাব্বি। এ সময় পরিবেশ অধিদফতর, ফায়ার সার্ভিস ও থানা পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত থেকে সার্বিক সহযোগিতা করেন।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পুরাতন ব্যাটারি সংগ্রহ করে সেগুলো পুড়িয়ে সিসা উৎপাদন করে আসছিল। উৎপাদিত সিসা পরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করা হতো। তবে কারখানাটি সম্পূর্ণ অবৈধভাবে, কোনো প্রকার লাইসেন্স ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছিল।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কারখানাটি থেকে নির্গত বিষাক্ত ধোঁয়া ও বর্জ্যের কারণে এলাকায় পরিবেশ দূষণ মারাত্মক আকার ধারণ করে। বিশেষ করে গবাদিপশু অসুস্থ হয়ে পড়া ও মারা যাওয়ার ঘটনাও ঘটে, যা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়।
এর আগেও অভিযোগের ভিত্তিতে প্রশাসন অভিযান চালিয়ে কারখানাটি বন্ধ করে জরিমানা ও কারাদণ্ড প্রদান করেছিল। কিন্তু সংশ্লিষ্টরা তা উপেক্ষা করে রাতের আঁধারে আবারও কার্যক্রম চালিয়ে যেতে থাকে। বিষয়টি নজরে আসলে মঙ্গলবার পুনরায় অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে এক্সাভেটরের সাহায্যে পুরো কারখানাটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনোভাবে কার্যক্রম চালানো সম্ভব না হয়।
জেলা পরিবেশ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক রাসেল নোমান বলেন, সিসা দূষণ পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এটি কৃষি ও প্রাণিসম্পদের ওপরও বিরূপ প্রভাব ফেলে। এর আগে ব্যবস্থা নেওয়া হলেও তারা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিল, তাই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক কে.এম রাফসান রাব্বি জানান, কারখানাটিতে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে ব্যাটারি পুড়িয়ে সিসা উৎপাদন করা হচ্ছিল, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এতে এলাকায় বিষক্রিয়া ছড়িয়ে গবাদিপশু মারা যাচ্ছিল। পাশাপাশি কোনো ধরনের বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই কারখানাটি পরিচালিত হচ্ছিল। তাই আইনানুগ ব্যবস্থা হিসেবে কারখানাটি ধ্বংস করা হয়েছে এবং ভূমির মালিকের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
প্রশাসনের এ অভিযানে স্বস্তি ফিরেছে স্থানীয়দের মাঝে। তারা আশা করছেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের অবৈধ ও পরিবেশ বিধ্বংসী কার্যক্রমের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
প্রতিনিধি/এসএস