images

সারাদেশ

নড়াইলে ছাত্রকে ডাস্টার দিয়ে পেটালেন দুই শিক্ষক

জেলা প্রতিনিধি

০৭ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৫৭ এএম

নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র কৃষ্ণ হালদারকে অমানবিক শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে দুই শিক্ষক দীপক কুমার ও রানী চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে। এ নিয়ে ওই ছাত্রের অভিভাবক ও আত্নীয় স্বজন ক্ষোভ জানিয়েছেন।

সোমবার (৬ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্লাস চলাকালীন এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, লোহাগড়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক রানী চক্রবর্তী পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী কৃষ্ণ হালদারকে ব্লাক বোর্ডের কালি মোছার ডাস্টার দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে বেদম মারধর করেন। এতে তার শরীরে ব্যাপক ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে। অসুস্থ কৃষ্ণ হালদারকে স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এর আগে গত বুধবার (১ এপ্রিল) স্কুলের আরেক শিক্ষক দীপক কুমার ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী কৃষ্ণ হালদারকে অমানবিক শারীরিক নির্যাতন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

নির্যাতনের ব্যাপারে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রুমানা আক্তারকে জানিয়েও কোনো প্রতিকার মেলেনি বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী কৃষ্ণ হালদারের পরিবার। বরং নির্যাতনের ব্যাপারে প্রধান শিক্ষককে জানানোর ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে সোমবার (৬ এপ্রিল) দুপুরে কৃষ্ণ হালদারকে শিক্ষক রানী চক্রবর্তী ব্লাক বোর্ডের কালি মোছার ডাস্টার দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে বেদম মারধর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

কৃষ্ণ হালদারের বাবা লোহাগড়া ফয়েস মোড় এলাকার উত্তম হালদার বলেন, পড়া না পরার কারণ দেখিয়ে আমার ছেলেকে দুই শিক্ষক (দীপক ও রানী চক্রবর্তী) বারবার মারধর করছেন। আমরা এ ঘটনার বিচার চাই। 

ভুক্তভোগী কৃষ্ণ হালদারের মা পল্লবী বলেন, আমার ছেলে আতঙ্কের মধ্যে আছে। স্কুলে যেতে ভয় পাচ্ছে। মারধরের শিকার হয়ে শরীরে অনেক ক্ষত হয়েছে।

তবে এ ব্যাপারে অভিযুক্ত দুই শিক্ষক দীপক কুমার ও রানী চক্রবর্তীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের পাওয়া যায়নি। যে কারণে তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

এ ব্যাপারে লোহাগড়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রুমানা আক্তার বলেন, শিক্ষার্থী কৃষ্ণ হালদারকে মারধরের বিষয়টি দুঃখজনক। এ ঘটনায় দুই শিক্ষককে সর্তক করা হয়েছে। আমি নিষেধ করা সত্বেও তারা কৃষ্ণ হালদারকে মারধর করা হয়েছে।

প্রতিনিধি/টিবি