জেলা প্রতিনিধি
০৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:২৭ পিএম
নিভৃত গ্রামের বাসিন্দা গেল্লি বেওয়া (৭০)। স্বামীহারা এই নারী কর্মজীবনে ঝিয়ের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। এখন বয়সের ভারে ন্যুহ। কোনো কাজ করতে পারেন না। অসুখ-বিসুখ নিত্যসঙ্গী। অর্থাভাবে ঠিকমতো দুবেলা খেতে পারেন না। ওষুধ কেনার নেই কোনো সামর্থ্য। সবমিলিয়ে একাকিত্ব জীবনে অতি মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি।
সম্প্রতি গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নের মধ্যরামচন্দ্রপুর কোনাবাড়ী গ্রামে দেখা গেছে, গেল্লি বেওয়ার করুণ দৃশ্য। এ সময় ছবি তুলতেই হাউমাউ করে কেঁদে ওঠেন তিন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মধ্যরামচন্দ্রপুর কোনাবাড়ী গ্রামের গেল্লি বেওয়ার স্বামী পানাউল্লাহ মিয়া বেশ কয়েক বছর আগে মারা গেছেন। এরপর একমাত্র বিধবা মেয়ে ধলী বেগমকে নিয়ে অন্যের বাড়িতে ঝির কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। এখন বার্ধক্যের কারণে একদম গৃহবন্দী। অন্যের সাহায্য ছাড়া চলাফেরা করতে পারেন না। একটি হুইলচেয়ার হলে কিছুটা চলতে পারতেন। তার চিকিৎসাসহ যাবতীয় খরচ বহন করার মতো নেউ নেই। যেন মৃত্যুর অপেক্ষায় বেঁচে আছেন গেল্লি বেওয়া।
স্থানীয় ইউপি সদস্য পল্লব মিয়া বলেন, গেল্লী বেওয়া একসময় পরিবার নিয়ে সুন্দরভাবে দিন কাটাতেন। এখন তাকে দেখভাল করে বিধবা মেয়ে। তার একটু সুচিকিৎসাসহ একটি হুইল চেয়ারের জরুরি প্রয়োজন।

এ বিষয়ে হোসেনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তৌফিকুল জানান, ওই বৃদ্ধা সরকারি ভাতা পায় এবং আমি খোঁজখবর নিয়ে সার্বিক সহযোগিতা করব।
পলাশবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাবের আলী বলেন, ওনি যেন একটি আবেদন করেন। খোঁজ নিয়ে তাকে সহযোগিতা করা হবে।
প্রতিনিধি/এসএস