জেলা প্রতিনিধি
০৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৪৬ পিএম
লক্ষ্মীপুরে জেলা শহরে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিলের চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়। একপর্যায়ে বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী, পুলিশ ও ছাত্রদলের ব্যানারে জুলাই ফাইটার্স নেতাকর্মীদের মধ্যে ত্রিমুখী সংঘর্ষের ঘটনার রূপ নেয়।
এতে সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ওয়াহিদ পারভেজসহ অন্তত ১০জন আহত হয়।
এ ঘটনায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম মুরাদসহ দুইজনকে আটক করা হয়েছে।
রোববার (৫ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শহরের চকবাজার জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনতে ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ। পুলিশের পক্ষ থেকে বন্ধ করে দেওয়া হয় সব দোকানপাট।
দু-পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। তবে এ ঘটনার জন্য বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলের ব্যানারে জুলাই ফাইটার্স নেতাকর্মীরা একে অপরকে দায়ী করছেন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেল, শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে শহরের হাসপাতালে রোডে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থী হাবিবুর রহমান ফাহিম ও জুলাই ফাইটার্স কর্মী, ছাত্রদল নেতা আকবর হোসেন মুন্নার সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথাকাটাকাটি হয়।
এ নিয়ে দুইজনের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে হাবিবুর রহমান ফাহিম আহত হয়।

এর প্রতিবাদে (আজ) রোববার বিকেলে দুপক্ষের নেতাকর্মীরা চক বাজার মসজিদের সামনে বিক্ষোভের ডাক দেয়।
এতে আইনশৃঙ্খলা অবনতির শঙ্কা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত পৌর এলাকায় সভা-সমাবেশ, মিছিল নিষিদ্ধ করে ১৪৪ ধারা জারি করে উপজেলা প্রশাসন। ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা চক বাজার মসজিদের সামনে অবস্থান নেয়।
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ক্যাথোয়াইপ্রু মারমা এ নির্দেশনা জারি করেন।
এক পর্যায়ে মিছিল বের করতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয় এবং ১৪৪ ধারা ভঙ্গ না করতে অনুরোধ জানায়। কিন্তু পুলিশের বাধা না মেনে মিছিল করতে চাইলে পুলিশ লাঠিচার্জ লাঠি সার্চ করে। এতে পুলিশের সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়।
শিক্ষার্থীদের হামলায় সদর থানার ওসি মোহাম্মদ ওয়াহিদ পারভেজসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়। এ খবর শুনে জুলাই ফাইটার্সের ব্যানারে ছাত্রদলের নেতাকর্মীর ঘটনাস্থল এসে ধাওয়া দেয়।
এতে জামায়াত নেতা শহিদউল্যাহসহ কয়েকজন আহত হয়। এ নিয়ে বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী, পুলিশ ও ছাত্রদলের ব্যানারে জুলাই ফাইটার্সের নেতাকর্মীদের মধ্যে ত্রিমুখী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটনা ঘটে।

এতে উভয়ের অন্তত ১০জন আহত হয়। পরে আহত অবস্থায় সদর থানার ওসি ওয়াহিদ পারভেজসহ আহত অন্যদের উদ্ধার করে সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এর প্রতিবাদে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল করে। মিছিলটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে উত্তর তেমুহনী গিয়ে শেষ হয়। এনিয়ে শহরের উত্তেজনা বিরাজ করছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(প্রশাসন-অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থীরা ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করেছে। পুলিশ বাধা দিলে তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে সদর থানার ওসিসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়। পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। মামলার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি।
প্রতিনিধি/এসএস