জেলা প্রতিনিধি
০৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:২৩ পিএম
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর সীমান্তে অবৈধভাবে ভারতে পাচারের সময় চার শিশুসহ আট বাংলাদেশি নাগরিককে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ সময় প্রতারণা ও পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে দালাল চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়।
রোববার (৫ এপ্রিল) ভোররাত আনুমানিক ৩টার দিকে জীবননগর থানাধীন সীমান্তবর্তী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের উদ্ধার করা হয়।
চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খানের সার্বিক দিকনির্দেশনায় এবং জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোলায়মান শেখের তত্ত্বাবধানে এই অভিযান পরিচালিত হয়। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, উদ্ধার ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজন আগে অবৈধভাবে ভারতের হরিয়ানা রাজ্যে বসবাস করতেন এবং ৭-৮ মাস পূর্বে সাতক্ষীরা জেলার ভোমরা সীমান্ত দিয়ে দেশে ফিরে আসেন।

পরবর্তীতে পুনরায় ভারতে প্রবেশের উদ্দেশে তারা যশোর জেলার মনিরামপুর থানার রাজঘাট এলাকার দালাল শফির (৫০) মাধ্যমে চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার বেনীপুর গ্রামের স্থানীয় দালাল ফারুক হোসেন (৪৫) ও ইসরাফিল হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। দালাল চক্রটি ভুক্তভোগীদের ভারতে কার্টন তৈরির ভালো কাজের ব্যবস্থা করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে মোট ১ লাখ ৬০ হাজার টাকার চুক্তি করে।
পুলিশ আরও জানায়, রোববার ভোররাত ৩টার দিকে দালাল ফারুক ও ইসরাফিল ভুক্তভোগীদের সীমান্তবর্তী এলাকায় নিয়ে ঘোরাফেরা করে। ভারতে প্রবেশ না করিয়ে তারা কৌশলে ভুক্তভোগীদের কাছে থাকা স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা এবং ব্যবহৃত মোবাইল ফোন হাতিয়ে নেয়। এ সময় প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে বাধা দিলে দালালরা ভুক্তভোগী রাকিব মোল্লাকে মারধর করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।
খবর পেয়ে জীবননগর থানা পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত দালাল চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন- জীবননগর থানার বেনীপুর মাঠপাড়া এলাকার জুনুর উদ্দিনের ছেলে ইসরাফিল (৩২) এবং কাউসার আলী বিশ্বাসের ছেলে মো. উজ্জ্বল হোসেন (৪০)।

উদ্ধার হওয়া ভুক্তভোগীরা হলেন- নড়াইল জেলার লোহাগড়া উপজেলার দোহা মল্লিকপুর (পূর্বপাড়া) গ্রামের সোহরাব মোল্লার ছেলে রাকিব মোল্লা (৩৭), তার স্ত্রী নাইস মিনা খানম (৩০), আমির হোসেন মোল্লার ছেলে লিমন মোল্লা, তার স্ত্রী সাথী খাতুন (২৫) এবং তাদের চার সন্তান রিহান মোল্লা, ফাতেমা খাতুন (১০), ফারিয়া খাতুন (২) ও ইসমাইল মোল্লা (১)।
জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলায়মান শেখ জানান, উদ্ধার করা ভুক্তভোগীদের জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় জীবননগর থানায় সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা ও পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
প্রতিনিধি/এসএস