জেলা প্রতিনিধি
০৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:২২ পিএম
নড়াইলের কালিয়া উপজেলার নড়াগাতি থানা এলাকায় গৃহবধূ মিতু বেগমকে ব্লেড দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে ক্ষতবিক্ষত করার অভিযোগ উঠেছে তার সাবেক স্বামী নুরে আলম মল্লিকের বিরুদ্ধে।
শনিবার (৪ এপ্রিল) দিবাগত মধ্যরাতে নড়াগাতী থানার মাউলি ইউনিয়নের তেলিডাংগা গ্রামে এ হামলার ঘটনা ঘটে। ওই গৃহবধূ বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
স্থানীয় ও স্বজন সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দিবাগত মধ্যরাত দেড়টার দিকে তেলিপাড়া গ্রামের ওবায়দুল শেখের মেয়ে গৃহবধূ মিতু বেগম প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে যান। পরে তার সাবেক স্বামী কালিয়া উপজেলার মির্জাপুর গ্রামের টুটু মল্লিকের ছেলে নুরে আলম মল্লিক ব্লেড দিয়ে মিতুর শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে গুরুতর জখম করে। এমনকি ব্লেড দিয়ে মিতুর গলা কেটে হত্যা চেষ্টা করে বলে অভিযোগ রয়েছে। আহত মিতুকে স্বজনরা উদ্ধার করে লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে তার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় জখম হওয়ায় ৪৫টি সেলাই লেগেছে।
রোববার (৫ এপ্রিল) সরেজমিনে লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গেলে আহত মিতু বেগম অভিযোগ করে বলেন, গভীর রাতে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে গেলে তার সাবেক স্বামী নুরে আলম পেছন থেকে ঝাপটে ধরে ব্লেড আমার মুখে, চোখে ও গলায় আঘাত করতে করতে বলে, তোকে জীবনের মতো শেষ করে দেব। তখন আমার ডাক চিৎকারে আমার আমার ভাই মহিদুল এসে রক্ত মাখা অবস্থায় উদ্ধার করে লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। বর্তমানে আমি চিকিৎসাধীন। আমি তার দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তি দাবি করছি।
এ ঘটনায় আহত মিতুর ভাই মহিদুল অভিযোগ করে বলেন, আমার বোন মিতুকে দেড় মাস আগে নুরে আলমের সঙ্গে সামাজিকভাবে তালাক প্রদান করা হয়। নুরে আলম আমার বোন মিতুকে হত্যার উদ্দেশে আক্রমণ করে ব্লেড দিয়ে আঘাত করে গুরুতর জখম করেছে। নুরে আলম একজন নেশাগ্রস্ত লোক এবং মাদক কারবারি। আমরা ওই লম্পট নুরে আলমের বিচার দাবি করছি।
তবে এসব অভিযোগের ব্যাপারে জানতে অভিযুক্ত নুরে আলমের সঙ্গে বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। যে কারণে অভিযোগের ব্যাপারে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে নড়াগাতী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রহিম বলেন, এ ব্যাপার এখনো পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেননি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রতিনিধি/এসএস