নিজস্ব প্রতিবেদক
০৫ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৩০ এএম
রাজধানীর কেরানীগঞ্জের কদমতলীতে একটি গ্যাস লাইটার কারখানায় ভয়াবহ আগুনে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ছয় জনে দাঁড়িয়েছে। সর্বশেষ আরও একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত দুজন।
শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে কদমতলীর ওই কারখানায় আগুন লাগে।
ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণকক্ষ জানায়, বেলা ১টা ১৩ মিনিটে আগুন লাগার খবর পেয়ে একে একে সাতটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার ও অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রম শুরু করে। প্রায় সোয়া এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন ফায়ার ফাইটাররা।
ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম দোলন জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর কারখানার ভেতর থেকে একে একে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মোট ৬টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখনো নিহতদের নাম-পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে, অগ্নিকাণ্ডে আহত দুজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজনকে গুরুতর অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কারখানাটিতে দাহ্য পদার্থ থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তবে আগুনের সূত্রপাত এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এদিকে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী শনিবার অগ্নিকাণ্ডে ভস্মীভূত গ্যাস লাইট কারখানা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। মন্ত্রী আগুনের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে খোঁজখবর নেন এবং এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহত শ্রমিকদের পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।
কারখানা পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী সরাসরি জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ছুঁটে যান। সেখানে তিনি চিকিৎসাধীন দগ্ধ শ্রমিকদের শয্যাপাশে কিছু সময় অতিবাহিত করেন এবং তাদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন। তিনি আহতদের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন এবং সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের সহায়তায় বিশেষ তহবিল ঘোষণা করেন। তিনি জানান, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন-এর তহবিল থেকে নিহত প্রত্যেক শ্রমিকের পরিবারকে ২ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। আহত ও চিকিৎসাধীন প্রত্যেক শ্রমিককে চিকিৎসার জন্য সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।
অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটন ও দায়ীদের চিহ্নিত করতে মন্ত্রী পদক্ষেপ নিয়েছেন। তিনি শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের একজন যুগ্ম সচিবের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন। কমিটিকে আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। একই সাথে ঢাকা জেলার জেলা প্রশাসককেও এই ঘটনার বিষয়ে পৃথক একটি প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ প্রদান করেন তিনি।
ক.ম/