images

সারাদেশ

কুষ্টিয়ায় বাড়ছে হামের প্রকোপ, ১৯ ঘণ্টায় তিন শিশুর প্রাণহানি

জেলা প্রতিনিধি

০৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:২৯ পিএম

কুষ্টিয়ায় বেড়েই চলেছে হামের প্রকোপ। সেইসঙ্গে বাড়ছে প্রাণহানির সংখ্যা। শুক্রবার ভোর ৫টা থেকে দিবাগত মধ্যরাতের পর্যন্ত মারা গেছে তিন শিশু। মারা যাওয়া তিন জনের বয়স ৫ থেকে ৯ মাসের মধ্যে। এরা হামের উপসর্গ নিয়ে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, জেলায় হামে আক্রান্ত হয়ে প্রথম প্রাণহানি ঘটে আফরান নামের আট মাস বয়সী এক শিশুর।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু ইউনিট-২ এর হাম ওয়ার্ডে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মৃত আফরান কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ভাদালিয়া এলাকার আলামিন ও অন্তরা দম্পতির একমাত্র সন্তান। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, হাম ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে গত ৮ দিন ধরে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল শিশুটি।

এর মাত্র কয়েক ঘণ্টা পর একই ওয়ার্ডে হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়।

৫ মাস ২০ দিন বয়সী ওই শিশুর নাম আইজা, সে কুষ্টিয়া শহরের রেনউইক মোড় এলাকার মোমিন হোসেনের মেয়ে। শিশুটির শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিলে গত ৩০ মার্চ তাকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। 

আরও পড়ুন

কুষ্টিয়ায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও এক শিশুর মৃত্যু

কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. এ এইচ এম আনোয়ারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ভর্তির সময় থেকেই শিশুটির অবস্থা ক্রিটিক্যাল ছিল। এবং তার আইসিইউ সার্পোটের দরকার ছিল। আমরা শিশুটিকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার কথা বলেছিলাম। কিন্তু তার পরিবার কোনো কারণে ঢাকায় নিতে পারেনি রাতে শিশুটি মারা যায়।

এদিকে শুক্রবার রাত রাত সাড়ে ১০টার দিকে কুষ্টিয়া আড়াইশ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইব্রাহিম (৮ মাস) নামের আরেক শিশুর মৃত্যু হয়। সে দৌলতপুর উপজেলার চঞ্চল হোসেনের ছেলে। হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. হোসেন ইমাম জানান, শুক্রবার বিকেল ৩টার দিকে হাম উপসর্গ নিয়ে তাকে ভর্তি করা হয় এবং রাতে তার মৃত্যু হয়।

4bf6ff28-2340-436b-bd6f-6ac219c1cf5a

কুষ্টিয়া জেলা সিভিল সার্জন অফিসের তথ্যমতে, জেলায় এ পর্যন্ত অন্তত ৩০০ এর অধিক শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। এর মধ্যে ৭৫ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন এবং জেলায় মোট ৩ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে।

জানতে চাইলে কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন শেখ মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, হামের টিকা পর্যাপ্তভাবে পাওয়া যায়নি। সংক্রমণ প্রতিরোধে সচেতনতার ঘাটতি এবং বাইরের জেলায় কাজ করা মানুষদের ফেরার কারণে সংক্রমণ বাড়ছে। জেলায় হামে আক্রান্ত শিশুদের জন্য সব হাসপাতালে আলাদা ‘হাম আইসোলেশন কর্নার’ খোলা হয়েছে এবং টিকা হাতে পাওয়া মাত্র দ্রুত টিকাদান কার্যক্রম শুরু করা হবে।

হাসপাতালগুলোর ওয়ার্ডে ইতোমধ্যে হামের রোগীদের জন্য আলাদা কর্নার করা হয়েছে। তবে রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ শিশু ওয়ার্ডেও চিকিৎসা নিতে হচ্ছে অনেককে। এতে দেখা দিয়েছে শয্যা সংকটও। হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা শ্বাসনালীর মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তাই সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।

প্রতিনিধি/এসএস