images

সারাদেশ

পায়ে ধাক্কা লাগায় শিশুকে গলা কেটে হত্যা করলেন চাচি

জেলা প্রতিনিধি

০৪ এপ্রিল ২০২৬, ১১:০১ এএম

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলায় অঙ্কিত বর্মন (৩) নামে এক শিশুকে গলা কেটে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অঙ্কিতের চাচা-চাচিসহ চারজনকে আটক করেছে পুলিশ। পরে আদালতে হাজির করলে হত্যার বিষয়ে স্বীকারোক্তি দেয় চাচি ফুলরানি বর্মণ (৪২)।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুল ইসলাম হারুন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এরআগে গত বুধবার (১ এপ্রিল) আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন ফুলরানি বর্মন।

ওসি জানান, স্বীকারোক্তিতে ফুল রানি বর্মন জানিয়েছেন, তার শিশু সন্তানের সঙ্গে ঝগড়া করছিল অঙ্কিত। এতে তিনি ক্ষিপ্ত হন। এক পর্যায়ে তার পায়ে ধাক্কা দেওয়ায় অঙ্কিতের প্রতি আরও ক্ষিপ্ত হন তিনি। পরে পাশের এক ঘরে নিয়ে অঙ্কিতকে গলা কেটে হত্যা করেন ফুলরানি বর্মন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত অঙ্কিতের বাবা সাগর বর্মন ঢাকায় পোশাক কারখানায় কাজ করেন। স্ত্রী সন্তানসহ সেখানেই বসবাস করেন। নাতিকে দেখাশোনা করার জন্য ছেলের সঙ্গে ঢাকায় থাকেন সাগরের মা। কয়েক দিন আগে অঙ্কিতকে নিয়ে গ্রামের বাড়ি উপজেলার বরান্তর গ্রামে যান তার দাদি। গত সোমবার দুপুরে অঙ্কিত বাড়ির উঠানে খেলা করছিল। তার দাদি পাশের বাড়িতে গিয়েছিল। এদিকে তার চাচারাও বাড়ির বাইরে নিজেদের কাজে ব্যস্ত ছিলেন। দাদি পাশের বাড়ি থেকে ফিরে এসে অঙ্কিতকে খুঁজে পাচ্ছিলেন না। অনেক খোঁজাখুঁজি করে পাশের বাড়ির সুকুমার বর্মন নামে এক আত্মীয়র ঘরের ভেতরে বিছানা থেকে গলা কাটা অবস্থায় অঙ্কিতকে পাওয়া যায়। দ্রুত উদ্ধার করে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চারজনকে আটক করে।

তারা হলেন— অঙ্কিতের চাচা রাজন চন্দ্র বর্মণ (২৮), চাচা লিটন বর্মণের স্ত্রী ফুলরানি বর্মণ (৪২), আত্মীয় সুকুমার বর্মণ (৫৪) ও তার স্ত্রী মায়ারানি বর্মণ (৪৫)।

জিজ্ঞাসাবাদে ফুলরানি বর্মণ হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেন। অন্যরাও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন। ঘটনার পরদিন অঙ্কিতের বাবা বাদী হয়ে থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।

বুধবার তাদের আদালতে হাজির করা হলে ফুলরানি বর্মণ হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। পরে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।

মোহনগঞ্জ থানার ওসি হাফিজুল ইসলাম বলেন, আদালতের নির্দেশে ওই চারজনই বর্তমানে কারাগারে রয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত চলমান রয়েছে।

প্রতিনিধি/টিবি