জেলা প্রতিনিধি
০৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৪৯ পিএম
সুন্দরবনে পৃথক দুইটি সফল অভিযানে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ কুখ্যাত ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর দুই সক্রিয় সদস্যকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। একইসঙ্গে আরেকটি অভিযানে জোনাব বাহিনীর কবল থেকে তিন জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সন্ধ্যায় কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান।
লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খুলনার দাকোপ থানার বাইনতলা খাল সংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর বিরুদ্ধে শুক্রবার ভোর ৬টায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। কোস্ট গার্ড বেইস মোংলা ও আউটপোস্ট নলিয়ানের যৌথ অভিযানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাতরা পালানোর চেষ্টা করলে ধাওয়া করে দুইজনকে আটক করা হয়।
এ সময় তাদের কাছ থেকে ২টি একনলা বন্দুক, ২৩ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ৫ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ৫ পিস ইয়াবা এবং নগদ ১,১০০ টাকা উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি তাদের আস্তানাও ধ্বংস করা হয়েছে।
আটককৃতরা হলেন বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার সোহাগ হাওলাদার (৩৫) এবং খুলনার পাইকগাছার বাবুল সানা (৪২)। তারা দীর্ঘদিন ধরে ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর সক্রিয় সদস্য হিসেবে দস্যুতা করে আসছিল বলে জানিয়েছে কোস্ট গার্ড।
এদিকে, আরেকটি অভিযানে সাতক্ষীরার শ্যামনগর থানার হোগলডরা খাল এলাকা থেকে জোনাব বাহিনীর হাতে জিম্মি থাকা তিন জেলেকে উদ্ধার করা হয়। জানা যায়, গত ৩১ মার্চ ওই জেলেদের একটি নৌকাসহ অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করছিল ডাকাতরা।
পরবর্তীতে ১ এপ্রিল সন্ধ্যায় কোস্ট গার্ড স্টেশন হলদেবুনিয়া ও কৈখালীর যৌথ অভিযানে ওই এলাকা থেকে জিম্মি থাকা তিন জেলে—ইনতাজ (৫০), মোশাররফ (৪২) ও আনিস (৪৫)—কে উদ্ধার করা হয়। তাদের বাড়ি সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায়।
অভিযানকালে ডাকাতদের ব্যবহৃত একটি নৌকা, ২ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ১ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ৩টি ওয়াকিটকি চার্জার, ৩টি মোবাইল ব্যাটারি এবং একটি কুড়াল উদ্ধার করা হয়েছে।
কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, আটক ডাকাতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং উদ্ধার জেলেদের পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও জানানো হয়, গত দেড় বছরে কোস্ট গার্ডের ধারাবাহিক অভিযানে সুন্দরবনের বিভিন্ন কুখ্যাত বাহিনীর মোট ৬১ জন সদস্যকে আটক করা হয়েছে। এ সময় ৮০টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৫৯৯ রাউন্ড তাজা গুলি, ৩০৮ রাউন্ড ফাঁকা গুলি এবং ১,৯৫০ রাউন্ড এয়ারগানের গুলি জব্দ করা হয়। পাশাপাশি দস্যুদের কবল থেকে ৭৮ জন জেলে ও ৩ জন পর্যটককে উদ্ধার করা হয়েছে।
কোস্ট গার্ড কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সুন্দরবনকে সম্পূর্ণ দস্যুমুক্ত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
প্রতিনিধি/ এজে