Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

‘নো কার্ড, নো ফুয়েল’ কার্যক্রমে ভোগান্তি, মানছে না নির্দেশনা

জেলা প্রতিনিধি

০৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:২১ পিএম

জ্বালানি তেলের সংকট ও অনিয়ম নিয়ন্ত্রণে চুয়াডাঙ্গায় আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়েছে ‘নো কার্ড, নো ফুয়েল’ কার্যক্রম। তবে মাঠপর্যায়ে এ নির্দেশনা কার্যত মানা হচ্ছে না। তেল পাম্পগুলোতে জ্বালানি নিতে ভিড় করলেও অধিকাংশ গ্রাহকই ফুয়েল কার্ড প্রদর্শন করছেন না। অনেক ক্ষেত্রে পাম্প কর্তৃপক্ষ ও দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদেরও কার্ড যাচাই করতে দেখা যাচ্ছে না।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী ফুয়েল কার্ড ছাড়া কোনো যানবাহনে পেট্রোল বা অকটেন সরবরাহ না করার কথা থাকলেও বাস্তবে এর ব্যত্যয় ঘটছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জ্বালানির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা, কালোবাজারি রোধ এবং অতিরিক্ত মজুত বন্ধ করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফুয়েল কার্ডে গ্রাহকের পূর্বে নেয়া তেলের পরিমাণ ও তারিখ উল্লেখ থাকায় সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনা সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ফুয়েল কার্ড পেতে আবেদনকারীদের জাতীয় পরিচয়পত্র, ড্রাইভিং লাইসেন্স, যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন কপি ও ছবি জমা দিতে হয়েছে। নির্ধারিত সময় পর্যন্ত জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে এসব কার্ড বিতরণ করা হয়েছে।

তবে ফুয়েল কার্ডধারী মোটরসাইকেল চালকদের অভিযোগ, প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী কার্ড সংগ্রহে তাদের সময় ও শ্রম ব্যয় হলেও বাস্তবে সেই নিয়ম কার্যকর না হওয়ায় তারা বঞ্চিত হচ্ছেন। কার্ড ছাড়াই অনেকেই সহজে তেল পাচ্ছেন, ফলে নিয়ম মেনে কার্ড নেওয়া ব্যক্তিরাই পড়েছেন ভোগান্তিতে।

এদিকে, সকাল ৭টা থেকে তেল সরবরাহ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও অনেক পাম্পে আগের দিন সন্ধ্যা থেকেই মোটরসাইকেল রেখে সিরিয়াল তৈরি করে রাখছেন চালকরা, যা বিশৃঙ্খলা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

সার্বিক বিষয়ে চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বিএম তারিক উজ জামান জানান, প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত জেলার ২২টি পেট্রলপাম্পে কার্ডধারীদের তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। কৃষিকাজের স্বার্থে ডিজেল সরবরাহে কিছুটা শিথিলতা রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, এ ব্যবস্থার মাধ্যমে তেলের অপচয় ও অবৈধ বিক্রি বন্ধ হবে এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরবে। তবে নির্দেশনা অমান্য করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রতিনিধি/ এজে