জেলা প্রতিনিধি
০৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:০০ পিএম
নোয়াখালী জেলায় আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে হাম আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলাজুড়ে নতুন করে আরও ১১ জন হামে আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৬ জনে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে হাম আক্রান্ত হয়ে ভর্তি আছেন ৩৫ জন। আক্রান্তদের মধ্যে বেশিরভাগই শিশু।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দুপুরে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. ফরিদ উদ্দিন ও জেলা সিভিল সার্জন আনোয়ার হোসেন গণমাধ্যমকে বিষ্যটি নিশ্চিত করেছেন।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, গত কয়েকদিন ধরেই জেলায় হামের সংক্রমণ উর্ধ্বমুখী। নতুন করে আক্রান্তদের মধ্যে ১১ জনকেই যথাযথ পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স ইসরাত জাহান ইফা জানান, হাসপাতালে আসা রোগীদের মধ্যে উচ্চ তাপমাত্রা ও শরীরে র্যাশ বা লালচে দানার উপসর্গ বেশি দেখা যাচ্ছে। তিনি বলেন,
আমরা সর্বোচ্চ সতর্কতার সাথে আক্রান্তদের সেবা দিচ্ছি। শিশুদের ক্ষেত্রে বিশেষ যত্ন নেওয়া হচ্ছে এবং অভিভাবকদের সচেতন থাকতে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
লক্ষীপুর থেকে সোহাগ নামে এক অভিভাবক চিকিৎসা নিতে এসে জাননা, আমি আসছিলাম ২৭ তারিখে। আমার বাচ্চার প্রথম জ্বর, ঠান্ডা, কাশি ছিল এমনকি মুখটুক সব ফুলে গিয়েছিল। পরে লক্ষ্মীপুর নিলাম প্রাইভেটে। ওইখান থেকে বলতেছে তাড়াতাড়ি মাইজদী নিয়ে যান অক্সিজেন লাগবে।
পরে এখানে নিয়ে আসছি। ভর্তি হওয়ার পর নিউমোনিয়া, ঠান্ডার মোটামুটি আল্লাহর রহমতে এটা ভালো হইছে। কিন্তু হঠাৎ করে আবার হাম রোগটা দেখা দিছে। পরে তাড়াতাড়ি এখানে ভর্তি দিছে। আজকে এখানে প্রায় ৪ দিন। এখন ভালোর দিকে আছে কিন্তু জ্বরটা বেশি। জ্বর উঠলে বাচ্চা কাঁপতে কাঁপতে শেষ।
জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, সংক্রমণ রোধে আক্রান্তদের আইসোলেশনে রাখা এবং টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। হঠাৎ করে হামের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় অভিভাবকদের আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগের পরামর্শ দিয়েছেন জেলা সিভিল সার্জন আনোয়ার হোসেন।
জেলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক ফরিদ হোসেন চৌধুরী জানান, গত ২৪ ঘন্টায় হাসপাতালে প্রায় ১১ জনের মতো শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছেন।
প্রতিনিধি/এসএস