images

সারাদেশ

কুকুরকে লাথি দেওয়া নিয়ে প্রতিপক্ষের লাথির আঘাতে প্রাণ হারালেন কৃষক

জেলা প্রতিনিধি

০৩ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৫১ পিএম

কুমিল্লার দেবীদ্বারে উপজেলার সুবিল ইউনিয়নের পূর্ব নারায়নপুর গ্রামে একটি কুকুরকে লাথি মারাকে কেন্দ্র করে কথা-কাটাকাটির জেরে প্রতিপক্ষ কামাল হোসেন ভুক্তভোগী কৃষক জুলুস মিয়ার (৫৫) গোপনাঙ্গে লাথি মারলে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান।

ঘটনাটি ঘটে (১ এপ্রিল) রাত সোয়া ৭টায় নারায়নপুর গ্রামের মধ্যপাড়ায় আশরাফ আলীর বাড়ির সামনে আরাফাত ষ্টোর নামে একটি চায়ের দোকানে সামনে।

নিহত জুলুস মিয়া ওই গ্রামের মৃত সায়েদ আলীর ছেলে। পেশায় তিনি একজন কৃষক ছিলেন।

ওই ঘটনায় নিহতের স্ত্রী শিউলি আক্তার বাদী হয়ে একই গ্রামের সিদ্দিকুর রহমানে ছেলে মূল অভিযুক্ত কামাল হোসেন (৩৫), অভিযুক্ত কামাল হোসেনের ভাই আনোয়ার হোসেন (২৮), আলী আহম্মদ (৩০) এবং চাচাতো ভাই ফখরুল ইসলামকে (২৫) অভিযুক্ত করে দেবীদ্বার থানায় একটি হত‍্যা মামলা দায়ের করেন।

পুলিশ অভিযান চালিয়ে ভোর রাতে ব্রাক্ষ্মণপাড়া উপজেলা থেকে প্রধান অভিযুক্ত কামাল হোসেনকে গ্রেফতার পূর্বক বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বেলা ২টায় কোর্ট হাজতে চালান করেন। একইসঙ্গে নিহত জুলুস মিয়ার লাশ সুরতহাল তৈরি ও ময়নাতদন্তের জন‍্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন।

আরও পড়ুন

চাঁপাইনবাবগঞ্জে তেল নিতে গিয়ে বাসচাপায় মোটরসাইকেল আরোহী যুবক নিহত

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, বুধবার সন্ধ‍্যার পর নিহত জুলুস মিয়া ও অভিযুক্ত কামাল হোসেন স্থানীয় একটি চা’ দোকানের সামনে বসে চা’ খাচ্ছিলেন। এসময় একটি কুকুর তাদের সামনে এসে বসে। কুকুরটি দেখে জুলুস মিয়া লাথি মেরে সরিয়ে দেন। লাথি মারার ঘটনায় পাশে বসে থাকা কামাল হোসেন তাকে গালমন্দ করেন এবং বলেন, তুই পাগলের বংশ তোর ভাই পাগল হয়ে মারা গেছে। এ কথার জবাবে জুলুস মিয়া তার পায়ের জুতা খুলে কামালের গালে মারে, কামাল ক্ষুব্ধ হয়ে জুলুসের সঙ্গে হাতাহাতির এক পর্যায়ে জুলুসের গোপনাঙ্গে লাথি মারলে তিনি অচেতন হয়ে যান। স্থানীয়রা তাকে দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ‍্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব‍্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত জুলুসের নাতি আকাশ বলেন, আমি বাড়ির পাশে একটি মাচায় বসে ছিলাম। হঠাৎ চিৎকার শুনে গিয়ে দেখি দাদা মাটিতে পড়ে আছেন। অন্যরা দৌড়ে পালিয়ে যাচ্ছিল। এ সময় আনোয়ার দা নিয়ে আমার দিকে তেড়ে আসে।

নিহতের ভাতিজা মো. রোমান জানান, জুলুস মিয়ার ৫ ছেলে ও ২ মেয়ে রয়েছে। তিনি কৃষিকাজ করে পরিবার চালাতেন। তার মৃত্যুতে পরিবারটি চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছে।

নিহতের বড় ছেলে ইব্রাহিম (১৪) কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার বাবার হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।

এ বিষয়ে দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, নিহতের জুলাস মিয়ার স্ত্রী বাদী হয়ে মামলা করেন। আজ ভোর রাতে অভিযান চালিয়ে প্রধান অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে কোর্ট হাজতে চালান করেছি। লাশ ময়নাতদন্তের জন‍্য মর্গে পাঠিয়েছি।

প্রতিনিধি/এসএস