জেলা প্রতিনিধি
০৩ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৩৪ পিএম
নওগাঁ সদর উপজেলায় অবৈধভাবে পশুখাদ্য উৎপাদন মিলে অভিযান পরিচালনার সময় তোপের মুখে পড়েন ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। তবে এসময় মিল মালিক ওমর ফারুক (তপন) পশুখাদ্য উৎপাদনের স্বপক্ষে প্রমাণ স্বরুপ কোনো ধরনের লাইসেন্স বা কাগজপত্র দেখাতে না পারায় ১৫ হাজার টাকা জরিমানা গুনতে হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ মার্চ) বিকেল ৫টায় উপজেলার রজাকপুর (মল্লিকা ইনের পাশে) এলাকায় সাদ গুড়া ও চালনি মিলে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শেখ নওশাদ হাসান।
সদর উপজেলার রজাকপুর (মল্লিকা ইনের পাশে) এলাকায় অভিযানের সময় মিলে গিয়ে দেখা যায়, দুইটি গুদামে ধানের গুড়া (তুষ) স্তুপ করে রাখা ছিল। সেখানে শ্রমিকরা কাজ করছিল। এ তুষ থেকে পশু তৈরির জন্য বস্তা প্যাকেটজাত করা হচ্ছিল। আশপাশের কাউকে এ কারখানায় প্রবেশ করতে দেওয়া হতো না। স্থানীয়রা অবগত না এ মিলে কি করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা শেষে জরিমানার ঠিক আগ মুহূর্তে মতিউর মতিন নিজেকে গুড়া চালনি-মালিক সমিতির উপদেষ্টা পরিচয় দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে জরিমানা না করার জন্য অনুরোধ করেন। তারা দীর্ঘদিন এভাবেই ব্যবসা করে আসছে বলে জানান। এ বিষয়টি নিয়ে এক প্রকার তর্ক-বিকর্ত হয়। প্রাণিসম্পদ থেকে লাইসেন্স করতে হবে কেন তাদেরকে আগে জানানো হলো না। এসময় সেখানে উত্তেজনা পরিবেশ তৈরি হয় এবং প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার বিষয়টি নওগাঁ-৫ আসনের সংসদ সদস্যকে জানানো হবে।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শেখ নওশাদ হাসান বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়- রজাকপুর এলাকায় অনুমোদনবিহীন সাদ গুড়া ও চালনি মিলে পশুখাদ্য উৎপাদন করছিল। অভিযানের সময় তার সত্যতা পাওয়ায় যায়। এসময় মিল মালিক ওমর ফারুক (তপন) পশুখাদ্য উৎপাদনের জন্য প্রমাণস্বরুপ কোনো ধরনের লাইসেন্স বা কাগজপত্র তিনি দেখাতে পারেননি। এ অপরাধে মিল মালিকের ১৫ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ ও আদায় করা হয়েছে। আর যেসব মিল এবং মালিক রয়েছেন তারা এখান থেকে যথাযথ শিক্ষা নিবে এবং অনুমোদন নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করবেন।
জরিমানাকৃত মিল মালিক ওমর ফারুক (তপন) বলেন, শুধুমাত্র ট্রেড লাইসেন্স দিয়ে তিনটি মিল গত প্রায় ১৫-২০ বছর থেকে ব্যবসা করে আসছি। যেখানে প্রায় ২০ জন নারী-পুরুষ কাজ করেন। সরকারি দফতর থেকে লাইসেন্স নিতে হবে আমার জানা ছিল না।
অভিযানে সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম ও থানা পুলিশ উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিনিধি/এসএস