জেলা প্রতিনিধি
০৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৩৪ এএম
চাঁপাইনবাবগঞ্জে শিশুদের মাঝে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে হামের সংক্রমণ। শয্যা সংকটে মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে রোগীদের। রোগীর অতিরিক্ত চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও নার্সরা।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) পর্যন্ত গত তিন মাসে ২৫০ শয্যা চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে হাম রোগের লক্ষণ নিয়ে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন ৩৪৯ জন রোগী। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৫ জনের। বর্তমানে হাসপাতালটির হাম আইসোলেশন কর্নারে ভর্তি রয়েছেন ৪৬ জন রোগী।
গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১২ জন ভর্তি হয়েছেন। এদের মধ্যে যাদের অবস্থা গুরুতর তাদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর (রেফার্ড) করা হয়েছে।
টিকা না নেওয়ার কারণেই রোগীর এমন অতিরিক্ত চাপ বলে মনে করছেন চিকিৎসকরা। এ অবস্থায় সুস্থ শিশুদের অসুস্থ বা জ্বর থাকা শিশুদের সঙ্গে মিশতে না দেওয়ার এবং সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
২৫০ শয্যা চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মো. আব্দুস সামাদ বলেন, লোকবল সংকটে চিকিৎসা বাধাগ্রস্ত হলেও আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। আশা করছি, খুব শিগগিরই অবস্থার উন্নতি হবে।
তিনি আরও বলেন, করোনার পর টিকা গ্রহণের প্রতি আগ্রহ কমার প্রভাব পড়েছে। দুই বছরের কম বয়সী শিশুরাই বেশিরভাগ আক্রান্ত হয়েছে। আমাদের হাসপাতালে একটি ইউনিট আছে, যা কিডনি বা ডায়ালাইসিস ইউনিট হিসেবে ছিল। পরে আমরা সেই ইউনিটকে হাম ইউনিট করেছি।
হামের ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে এই চিকিৎসক বলেন, হাম এমন একটা রোগ, যা সহজেই এক শিশু থেকে আরেক শিশুকে আক্রান্ত করার ঝুঁকি থাকে। তাই তাদের আলাদা করার জন্য আইসোলেশন ওয়ার্ড করেছি। ফেব্রুয়ারির শুরু থেকেই আমাদের এই আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু আছে। তাদের তাদের ভিটামিন এ-সহ পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে জেলা সিভিল সার্জন ডা. এ কে এম শাহাব উদ্দিন বলেন, সংক্রমণ রোধে আক্রান্তদের আলাদা রাখা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, হাঁচি-কাশির সময় মুখ ঢেকে রাখা এবং শিশুদের ভিড় এড়িয়ে চলা জরুরি। কোনো উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া আবশ্যক।
প্রতিনিধি/এসএস