জেলা প্রতিনিধি
০২ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৩১ এএম
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের পন্টুন থেকে বাস ডুবির ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে জেলা প্রশাসন কর্তৃক গঠিত তদন্ত কমিটি। প্রতিবেদনে দুর্ঘটনার কারণ ও সংশ্লিষ্টদের দায়-দায়িত্ব সুনির্দিষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
বুধবার (১ এপ্রিল) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার। এর আগে, মঙ্গলবার রাতে জেলা প্রশাসকের কাছে তদন্ত প্রতিবেদনটি আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেন কমিটির প্রধান ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উছেন মে।
তদন্ত কমিটির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, দুর্ঘটনার পেছনে বাসের যান্ত্রিক ত্রুটিসহ বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট কারণ ছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উছেন মে বলেন ‘আমরা প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য গ্রহণের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেছি। তদন্তের স্বার্থে আমরা সংশ্লিষ্ট বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও আলোচনা করেছি।’
তদন্তে বাসের যান্ত্রিক ত্রুটির পাশাপাশি ফেরিঘাটের অবকাঠামোগত সমস্যার বিষয়টিও উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে ফেরিঘাটের পন্টুনে রেলিং স্থাপন, অ্যাপ্রোচ সড়ক উন্নয়ন এবং ঘাট আধুনিকায়নসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ করা হয়েছে। কমিটির প্রধান আরও জানান, তারা দুর্ঘটনার কারণ চিহ্নিত করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের পরামর্শ দিয়েছেন।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার বলেন, ‘তদন্ত প্রতিবেদনটি হাতে পেয়েছি। তদন্ত কমিটি প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেছে। আমরা প্রতিবেদনটি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়সহ সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে প্রেরণ করব। সেখান থেকে প্রাপ্ত নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
গত ২৫ মার্চ (বুধবার) বিকেলে কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে যাত্রীবাহী ‘সৌহার্দ্য পরিবহন’-এর একটি বাস দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের ৩ নম্বর পন্টুন থেকে পদ্মা নদীতে তলিয়ে যায়। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় ২৬ জন প্রাণ হারান।
দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে ওই রাতেই জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উছেন মেকে আহ্বায়ক এবং গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে সদস্য সচিব করে ৫ সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। এ ছাড়া, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় থেকেও পৃথক একটি ছয় সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
প্রতিনিধি/একেবি